সৌদি আরবের ন্যাশনাল গার্ডের শীর্ষ ব্যক্তিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে একটি দুর্নীতি দমন কমিটি তৈরি করেছেন যার মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ১১জন রাজপুত্র, চারজন বর্তমান মন্ত্রী ও ১০ জন সাবেক মন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। রবিবার বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা যায়। আটকের ঘটনাকে সৌদি যুবরাজের রাজমুকুট অর্জেনর ক্ষেত্রে একধাপ অগ্রগতি বিবেচনা করছে ওই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম।
সৌদি মালিকানাধীন আল আরাবিয়া টেলিভিশন জানায়, ওই দুর্নীতিবিরোধী কর্তৃপক্ষ ১১ জন রাজপুত্র, চারজন বর্তমান মন্ত্রী এবং দশজন সাবেক মন্ত্রীকে আটক করেছে। তবে কাদের কাদের আটক করা হলো তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। পরদিন রবিবার জ্যেষ্ঠ এক সৌদি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে রয়টার্সকে বলেন, আটককৃতদের মধ্যে ধনকুবের প্রিন্স এবং বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান কিংডম হোল্ডিং ৪২৮০ এর মালিক আলওয়ালিদ বিন তালাল ও সাবেক অর্থমন্ত্রী ইব্রাহিম আল আসাফ রয়েছেন। তবে সেই কর্মকর্তা নিজের নাম প্রকাশ করেননি এবং আটককৃত বাকিদের সম্পর্কেও জানা যায়নি। তাছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে কিংডম হোল্ডিং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
মন্ত্রিপরিষদেও ব্যাপক রদবদল আনা হয়েছে। রয়টার্স জানায়, শনিবার সৌদি আরব জাতীয় গার্ডের প্রধানের পদ থেকে রাজ পরিবারের প্রভাবশালী সদস্য মিতেব বিন আব্দুল্লাহকে সরিয়ে দিয়ে খালেদ বিন আয়াফকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। এ মিতেবকেই একসময় সম্ভাব্য বাদশাহ বলে বিবেচনা করা হতো; তবে দুই বছর আগে মোহাম্মদ বিন সালমানের উত্থান হওয়ার পর সেই সম্ভাবনা নিভে যায়। সৌদি ন্যাশনাল গার্ড এবং নৌবাহিনী প্রধানের পদেও করা হয়েছে রদবদল।
তবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সৌদি প্রিন্সদের আটক করা হলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী তা এখনও জানা যায়নি। অবশ্য, সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-অ্যারাবিয়া জানিয়েছে, ২০০৯ সালে সৌদিতে যে বন্যা হয়েছিল এবং ২০১২ সালে মার্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার যে ঘটনা ঘটেছিল এই বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে প্রিন্সদের আটকের ঘটনায় যুবরাজেরই ক্ষমতা বাড়ছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। যে দুর্নীতিবিরোধী কমিটির সুপারিশে প্রিন্সদের আটক করা হলো মূলত তার নেতৃত্বে ছিলেন বাদশাহ সালমানের পুত্র যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-অ্যারাবিয়া জানিয়েছে, ২০০৯ সালে সৌদিতে যে বন্যা হয়েছিল এবং ২০১২ সালে মার্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার যে ঘটনা ঘটেছিল এই বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। আর সৌদি আরবের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, যুবরাজকে প্রধান করে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেখানে যুবরাজ চাইলে যে কাউকে গ্রেফতার করার এবং যে কারও উপরে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেবার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
যুবরাজ সালমান ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রী প্রিন্স মিতেব বিন আব্দুল্লাহকে এবং নেভি কমান্ডার এডমিরাল আব্দুল্লাহ বিন সুলতান বিন মোহাম্মদ আল সুলতানকে বরখাস্ত করেছেন বলে জানিয়েছে এসপিএ। তবে তাদের কেন পদচ্যুত করা হয়েছে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।