টেক্সাসে হামলার ঘটনাকে ‘বন্দুকজনিত পরিস্থিতি’ বলতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এটি ‘মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাজনিত’ হামলার ঘটনা। বর্তমানে এশিয়া সফরে থাকা ট্রাম্প টোকিওর একটি সংবাদ সম্মেলনে টেক্সাস হামলা নিয়ে নিজের এমন অবস্থান ব্যক্ত করেন বলে জানিয়েছে স্কাই নিউজ অস্ট্রেলিয়া। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএস টুডেও খবরটি নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প তার আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিরোধী অবস্থানের পক্ষে সাফাই গাইতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
স্কাই নিউজ অস্ট্রেলিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, টোকিওর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, টেক্সাসের ওই হামলার ঘটনায় তিনি কী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন?
জবাবে ট্রাম্প বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বোঝা যাচ্ছে হামলাকারী খুব হতাশাগ্রস্ত ছিলেন এবং তার অনেক সমস্যা ছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘রবিবারের হামলাটি বন্দুকজনিত পরিস্থিতি নয় বরং এটি চূড়ান্ত পর্যায়ের মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা।ইউএস টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন ও অন্য আগ্নেয়াস্ত্র মালিকদের কাছ থেকে ব্যাপক রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়া ট্রাম্প আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণজনিত প্রস্তাবের বিরোধী। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পর পর বেশ কয়েকটি বড় ধরনের বন্দুক হামলার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবটি জোরালো হয়ে উঠেছে। রবিবার বন্দুক হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্রে মালিক এক ব্যক্তি হামলাকারীর সঙ্গে লড়াই করেছে জানিয়ে অন্যদের কাছেও বন্দুক না থাকায় ট্রাম্পকে আক্ষেপ করতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, ‘সৌভাগ্যক্রমে, যদি অন্য কারও কাছেও বন্দুক থাকতো তাহলে তারাও বিপরীত দিক থেকে আসা গুলি ঠেকাতে পারতো।’
টেক্সাসের পাবলিক সেফটি ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রবিবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে সন্দেহভাজন হামলাকারী চার্চে ঢুকে গুলি ছুড়তে শুরু করে। হামলাকারী গুলি চালাতে শুরু করলে তার হাত থেকে একজন স্থানীয় ব্যক্তি রাইফেল কেড়ে নেয় এবং তার দিকে গুলি ছোড়ে। এরপর বন্দুকধারী একটি গাড়িতে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাকে গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় হামলাকারী একজন শ্বেতাঙ্গ তরুণ এবং তার পরনে কালো রঙের পোশাক ছিল।