টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন হুথি নেতৃত্বাধীন রেভ্যুলুশনারি কমিটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলি আল-হুথি। তিনি বলেন, সৌদি রাজপরিবারের কোনও সদস্য বা অন্য কোনও নাগরিক দেশটিতে নিজেদের অনিরাপদ মনে করলে ইয়েমেন তাদের স্বাগত জানাবে।
হুথি ঘনিষ্ঠ সূত্রটি আল জাজিরাকে জানিয়েছে, ভ্রাতৃপ্রতিম প্রতিবেশিদের আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে তারা কোনও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ হাসিল করতে চায় না।
এর আগে রাজকীয় এক ডিক্রির মাধ্যমে সৌদি রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজ তার পুত্র যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে একটি দুর্নীতি দমন কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির সিদ্ধান্তে ৪ নভেম্বর ২০১৭ শনিবার রাতে ১১ প্রিন্স, চারজন বর্তমান মন্ত্রী এবং ১০ জন সাবেক মন্ত্রীকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী আল-ওয়ালিদ বিন তালালও রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের পর দেশটির শেয়ারবাজারে ধস নামে।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আটকের কথা বলা হলেও আটককৃতদের কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে পারেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ। এই আটক অভিযানের মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় আসির প্রদেশের গভর্নর প্রিন্স মানসুর বিন মাকরিন-এর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এরইমধ্যে ফিলিস্তিনপন্থী হিসেবে পরিচিত রাজপরিবারের আরেক সদস্য প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন ফাহাদ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে খবর আসে। অবশ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন ফাহাদ-এর মৃত্যুর খবর নাকচ করে দিয়েছে।
এই ধরপাকড়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘বাদশাহ সালমান ও যুবরাজের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তারা যা করছেন, বুঝেশুনেই করছেন। আটককৃতদের অনেকেই তাদের নিজে দেশের সঙ্গে বিরুপ আচরণ করছেন।’
সৌদি আরবের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, যুবরাজকে প্রধান করে যে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠন করা হয়েছে সেখানে যুবরাজ চাইলে যে কাউকে গ্রেফতার করার এবং যে কারও ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন।
আটক অভিযানের পাশাপাশি সৌদি আরবের মন্ত্রিপরিষদেও ব্যাপক রদবদল আনা হয়েছে। জাতীয় গার্ডের প্রধানের পদ থেকে রাজ পরিবারের প্রভাবশালী সদস্য মিতেব বিন আব্দুল্লাহকে সরিয়ে দিয়ে খালেদ বিন আয়াফকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। এ মিতেবকে এক সময় সম্ভাব্য বাদশাহ বলে বিবেচনা করা হতো। সৌদি ন্যাশনাল গার্ড এবং নৌবাহিনী প্রধানের পদেও করা হয়েছে রদবদল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরবে আরও বেশি করে বিদেশি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে দেশটির যুবরাজ একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মন্ত্রিপরিষদে এ রদবদল যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে রাজ্যের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করবে; যা দীর্ঘদিন ধরে শাসক পরিবারের আলাদা আলাদা ক্ষমতা শাখা থেকে পরিচালিত হতো। আর সমালোচকরা বলছেন, সৌদি আরবে এখন একচ্ছত্র ক্ষমতার মালিক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েমের পথে যাদেরই তিনি অন্তরায় বলে মনে করছেন; তাদেরই তিনি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে সিংহাসনের পথে নিজের পথকে আরও মসৃণ করতে চাইছেন যুবরাজ।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের ডেভিড কির্কপ্যাট্রিক বলেছেন, সৌদি আরবের নির্বাহী রাজতন্ত্রের কোনও লিখিত সংবিধান নেই। পার্লামেন্ট বা আদালতের দ্বারা সিদ্ধ কোনও বিধিও নেই। তাই দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা এখানে খুবই কঠিন। জনগণের টাকা ও রাজপরিবারের সম্পদের সম্পর্ক এখানে প্রশ্নবিদ্ধ।
প্রিন্সদের আটকের বিষয়টি এক বছরের বেশি সময় ধরে পরিকল্পনা করা হচ্ছিলো বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ব্রুস রিডেল বলেন, সৌদি রাজনীতির অভ্যন্তরীণ গবেষক ও পর্যবেক্ষরা এই পদক্ষেপকে রাজপরিবারের কোন্দল মনে করছেন। কারণ এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই যে বাবার মৃত্যুর পর মোহাম্মদ বিন সালমান খুব সহজেই সিংহাসনে বসতে পারবেন।