লেবাননের পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি বলেছেন, তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার জন্য কিছুদিনের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। এছাড়া রিয়াদে আটক থাকার গুঞ্জনও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াদের ফিউচার টেলিভিশনের সঙ্গে কথা বলেন হারিরি। পদত্যাগের ঘোষণার পর এটাই তার প্রথম সাক্ষাতকার। তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা দাবি করেন, তিনি রিয়াদে আটক রয়েছেন। তবে তিনি এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন।
২ নভেম্বর সৌদি সফরকালীন সময়ে হঠাৎ করেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন সাদ হারিরি। তার পদত্যাগের জন্য তিনি ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দায়ী করেন। তিনি জানান, খুন হওয়ার আশঙ্কা থেকেই পদত্যাগ করছেন তিনি।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ও সৌদি আরবের দ্বন্দ্বে লেবাননের হেজবুল্লাহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব চেষ্টা করছে লেবাননে হেজবুল্লাহকে দুর্বল করতে। হেজবুল্লাহ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি ও বর্তমান জোট সরকারের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে যেন ছায়াযুদ্ধে লেবাননকে বলি করা না হয়।
হারিরি বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করেছি। এবং খুব শিগগিরই সেই পদত্যাগপত্র জমা দিতে লেবাননে যাবো।’ তার এই পদত্যাগের মাধ্যমে লেবানন জেগে উঠবে বলে জানান তিনি। তিনি স্বীকার করেন যে তার পদত্যাগ যথাযথ প্রক্রিয়ায় ছিলো না। তবে দেশে একটি ‘ইতিবাচক নাড়া’ দিতে চেয়েছেন তিনি। হিজবুল্লাহকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে আমার কোনও বিরোধ নেই। তবে তারা আমাদের দেশ ধ্বংস করে দিচ্ছে, এটা আমি মেনে নিতে পারি না।
পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার জন্য কেন সৌদি আরবকে বেছে নিলেন এবং পদত্যাগ করার পর গত এক সপ্তাহ কেন আত্মগোপনে ছিলেন তার কোনো কারণ জানাননি হারিরি। তিনি দাবি করেন, তার নিজের প্রাণের পাশাপাশি লেবাননের জন্য নিরাপত্তাগত হুমকি তৈরি হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদত্যাগের পর তিনি সৌদি আরবে নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমার কাছে এমন কিছু খবর ও তথ্য ছিল যার কারণে পদত্যাগ করে লেবাননকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’