মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতায় আধিপত্য বিস্তারে সৌদি আরবকে সব ‘নাটক’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল রহমান আল থানি বলেন, ‘ক্ষমতার খেলায় সবরকম বিবাদের নাটক বন্ধ করুন।’ মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ওয়াশিংটনে সেন্টার ফর ন্যাশনাল ইন্টারেস্টে একথা বলেন আল থানি। তিনি বলেন, এই ক্ষমতাধর দেশগুলো তাদের আধিপত্য বিস্তারে উঠেপড়ে লেগেছে। ফলে মানবেতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যোগযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যবসা।’
গত ৫ জুন সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ এনে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, মিসরসহ কয়েকটি দেশ। সৌদি প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। বলা হয় সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দিচ্ছে কাতার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটি।
এরপরও থেমে থাকেনি সৌদি আরব। গত দুই সপ্তাহ ধরে সুন্নিপন্থী সৌদি আরব ও শিয়াপন্থী ইরানের মধ্যে চলছে ছায়াযুদ্ধ। আধিপত্য বিস্তারের খেলায় মেতেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই পরাশক্তি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানকে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের আশঙ্কা, ইরান তাদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। ইরাকযুদ্ধ ও আরব বসন্তের সুযোগ নিয়ে বাড়াতে পারে আঞ্চলিক প্রভাব। বাগদাদ, দামেস্ক, সানা ও বৈরুতের ধারাবাহিকতায় তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বাদবাকি দেশগুলোকে নিজেদের কব্জায় নিতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে সৌদি আরবের। এই বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করার লড়াইয়ে নেমেছে তারা। দেশের অভ্যন্তরে দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের নামে আর ইরানঘনিষ্ঠ ইয়েমেন-লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগ তুলে তেহরানবিরোধী ছায়াযুদ্ধ শুরু করে সৌদি আরব।
‘ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর’ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ইয়েমেনে অবরোধ ও লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য সৌদি সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর আধিপত্য বিস্তারের খেলায় অন্য সরকারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আতঙ্কিত হচ্ছে জনগণ।
চলতি মাসে সৌদি আরব সফরে গিয়ে হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি। ধারণা করা হয়, সৌদি আরবের চাপেই পদত্যাগ করেছেন তিনি। ওই পরিস্থিতির সাপেক্ষে আল থানি বলেছেন, লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এটি হস্তক্ষেপ। মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে ছায়াযুদ্ধের অংশ এটি।
এখন পর্যন্ত সৌদি জোটের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কুয়েত এই সংকট সমাধানে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে খুব একটা লাভ হয়নি। এই বিষয়ে সৌদি জোটকেই পুরো দোষ দিয়েছেন আল-থানি। তিনি বলেন, ‘তারা যখনই আলোচনা করতে চান আমরা প্রস্তুত আছি।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটন গিয়েছিলেন কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পও চান এই সংকটের অবসান হোক।