রাজপুত্র আটকে শীর্ষ সৌদি আন্তর্জাতিক কোম্পানির কার্যক্রমে স্থবিরতা

সৌদি আরবের শীর্ষ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কিংডম হোল্ডিংস-এর মালিক রাজপুত্র আলওয়ালিদ বিন তালাল আটকের পর ওই কোম্পানিকে আর ঋণ দিতে চাইছে না বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এতে থমকে গেছে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ কার্যক্রম।  এ ব্যাপারে জানাশোনা রয়েছে এমন চারটি ব্যাংক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে,  ওই কোম্পানিকে ঋণ দেওয়া হলে সরকারের প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ব্যাংকগুলো। এমন অবস্থায়, নতুন বিনিয়োগ করতে চাইলেও তা করতে পারছে না কোম্পানিটি। যার ফলে স্থরিবতা নেমে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে। 

আলওয়ালিদ বিন তালাল
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, কিংডম হোল্ডিংস এর ঋণের জন্য ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছিল, কিন্তু সেই আর্থিক পরিকল্পনাটি এখন স্থগিত করা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, আটক সৌদি রাজপুত্রের কোম্পানিকে ঋণ দেওয়া হলে প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে ঋণদাতাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। আর সে কারণে তারা ঋণ দিতে আগ্রহী নন।  

রয়টার্স বলছে, কিংডম হোল্ডিংস এর ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত স্থগিত করার মধ্য দিয়ে বোঝা যায় সৌদি আরবের নতুন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কিংডম হোল্ডিংস এর প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফাহমি দাবি করেছেন, তার কোম্পানি কোনও ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি চায়নি। কোনও আর্থিক চুক্তির শর্তও কখনও চূড়ান্ত হয়নি।

কিংডম হোল্ডিংস বিচিত্র খাতে বিনিয়োগে জড়িত সৌদি আরব ভিত্তিক কোম্পানি। বিভিন্ন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা ও বিনিয়োগ করার পাশাপাশি এর লক্ষ্য হলো হোটেল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা, নির্মাণ সরঞ্জাম খাদ্য, কৃষিজাত পণ্য এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের খুচরা ও পাইকারি বাণিজ্য, পরিবহন সরঞ্জামাদির বাণিজ্য, বিজ্ঞাপন, বাণিজ্যিক সেবা, শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা দেওয়া। যেসব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তাহলো: ইক্যুইটি, এর মধ্যে রয়েছে বেসরকারি ইক্যুইটি আন্তর্জাতিক, অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও বেসরকারি ইক্যুইটি বিনিয়োগ; হোটেল, এক্ষেত্রে হোটেলে বিনিয়োগ এবং হোটেল ব্যবসা পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করা এবং রিয়েল স্টেট সংক্রান্ত প্রকল্পে বিনিয়োগ করা।

সৌদি আরবে সম্প্রতি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। রাজপরিবারের সদস্যদের ওপর প্রথম দফায় আটক অভিযান চালানো হয় ৪ নভেম্বর রাতে। ওই রাতে ১১ জনকে আটকের পরের দিনগুলোতে ধরপাকড়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা দীর্ঘ হয়েছে। বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ এবং তার উচ্চাভিলাষী পুত্র মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)-এর নির্দেশে তাদের আটক করা হয়। প্রথম দিনই আটক হন আলওয়ালিদ বিন তালাল। কয়েকদিনের মাথায় আটক হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। এদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং রাজপরিবারের নারী সদস্যও রয়েছেন। বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২ হাজারেরও বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছেন তদন্তকারীরা। অবশ্য, সৌদি সরকারের দাবি, এতে দেশের অর্থনীতির ওপর কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ, এ অভিযান ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে, তাদের কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না। ওই কোম্পানিগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারবে।