জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে মাইলফলক তৈরি হলো। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্টের এক প্রতিবেদেন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই নেতানিয়াহু এক বিবৃতি প্রদান করে। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাহসী পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞ। তার ঘোষণায় সত্যিকারের ঐতিহাসিক মাইলফলক দেখলো বিশ্ব।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণায় তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা হলো ও সত্যের বিজয় হলো।
বুধবার জেরুজালেমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান।
নেতানিয়াহু অন্যান্য দেশগুলোকে জেরুজালেমকে রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে তারা জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করবে না। ইসরায়েলে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত ইমানুয়েল গিয়াউফ্রেট বলেন, এ ব্যাপারে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাব রয়েছে। জেরুজালেমের বিষয়ে অবশ্যই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে আলোচনা হতে হবে। এই আলোচনার আগেই এ ব্যাপারে নতুন অবস্থান নেওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ভালো কিছু নয়।’
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনিসহ আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো। এই লক্ষ্য অর্জনে ইসরায়েল ট্রাম্পের টিমের সঙ্গে কাজ করে যাবে।’
বিবৃতির শেষে ট্রাম্পকে সরাসরি ধন্যবাদ জানান নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইহুদী ও তাদের রাষ্ট্র তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।
ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করতে ১৯৯৫ সালে একটি আইন প্রণয়ন করে মার্কিন কংগ্রেস। তখন থেকে এ পর্যন্ত কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেননি। ওই আইনের বিধান অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের সামগ্রিক ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের। চাইলে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য দিক বিবেচনায় প্রতি ছয় মাস পর পর বিষয়টি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। সেই ১৯৯৫ সাল থেকে প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ আইনি সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। ফলে তেল আবিবেই থেকে গেছে মার্কিন দূতাবাস।