পবিত্র জেরুজালেম শহরকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রতিবাদে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ফিলিস্তিন ছাড়িয়ে এ প্রতিবাদ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো মুসলিম বিশ্বে। বুধবার ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ফিলিস্তিনিরা। গাজা উপত্যকায় বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দেন। দখলকৃত পশ্চিম তীরে বিক্ষোভকালে ইসরায়েলি বাহিনীর রাবার বুলেটের আঘাতে অন্তত ১৬ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। তুরস্ক, জর্ডান, লেবানন ও মিসরে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রতি ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুনিয়াজুড়ে বিক্ষোভ ব্যাপক রূপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মিসরের রাজধানী কায়রোতে ইসরায়েলের পতাকা পুড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। জর্ডান, পাকিস্তান, তিউনিসিয়া, লেবাননেও একই রকম বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় শুক্রবার বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল মালয়েশিয়ান ইসলামিক পার্টি। দেশটির ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন জানিয়েছে তারাও ওই বিক্ষোভে অংশ নেবে।
এদিকে ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে নতুন ইন্তিফাদা’র ডাক দিয়েছে ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন হামাস। ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার পবিত্র জেরুজালেম নগরীকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার পর হামাস নেতা ইসমাঈল হানিয়া নতুন এই ইন্তিফাদা বা প্রতিরোধ আন্দোলনের ডাক দেন। গাজায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শত্রুর মোকাবিলায় আমাদের ইন্তিফাদা ঘোষণা করা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা উচিত। একইসঙ্গে শুক্রবার থেকে গণবিক্ষোভের ডাক দেন তিনি।
ইসমাঈল হানিয়া বলেন, ‘আমরা জানি কিভাবে এর জবাব দিতে হয়। এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই অঞ্চলে জাহান্নামের দরজা খুলে গেল।’ তিনি বলেন, ট্রাম্পের ঘোষণায় ইতিহাস ও ভূগোল পাল্টে যাবে না।
সূত্র: বিবিসি, আনাদোলু এজেন্সি, পার্স টুডে।