আনুষ্ঠানিকভাবে আইএসের সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা ইরাকের

নুষ্ঠানিকভাবে জঙ্গীগোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে ইরাক। ৯ ডিসেম্বর শনিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এ ঘোষণা দেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি। এ সময় তিনি রবিবার সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করে বিজয় মিছিলের ডাক দেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

হায়দার আল আবাদিইরাকের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিজয়কে সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। আর এজন্য মুক্ত করা অঞ্চলকে স্থিতিশীল রাখতে হবে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হবে। চাকরির সুযোগ তৈরি করতে হবে। এইসবের মধ্য দিয়ে প্রকৃত ও সত্যিকারের জাতীয় সমন্বয় সাধন করতে হবে। জঙ্গিরা যেন নতুনভাবে আবারও মাথাচাড়া দিতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর আইএসের কবল থেকে নিজেদের ভূমির দখল নিয়েছে ইরাকি সেনারা। এরপরই আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ। রবিবার ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর এ সংক্রান্ত ঘোষণার মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালে শুরু হওয়া রক্তাক্ত লড়াইয়ের অবসান ঘটলো।

শুধু ইরাকে নয় বরং পুরো দুনিয়াজুড়ে আইএস স্তিমিত হয়ে পড়েছে। জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্য মনে করা হতো ইরাক ও সিরিয়াকে। দুই দেশেই তাদের পরাজিত করা হয়েছে। ইরাকের এই যুদ্ধ জয়ের ঘোষণার মাত্র দুইদিন আগে সিরিয়ায় আইএসকে পুরোপুরি পরাজিত করার কথা জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটি বলছে, সিরিয়ায় তাদের অভিযান সম্পন্ন হয়েছে।

২০১৪ সালে সিরিয়া ও ইরাকের বিরাট অঞ্চল দখল করে সেই অঞ্চলে কথিত খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবি করে আইএস।

বিবিসি'র আরব অ্যাফেয়ার্স এডিটর সেবাশ্চিয়ান আশার মনে করছেন, ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের সমাপ্তি হলেও মতাদর্শের লড়াই সহজে শেষ হবে না। আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সমাপ্ত হলেও, নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার জন্য, এখনও ছোটোখাটো মাত্রায় বিচ্ছিন্নভাবে তারা বিভিন্ন সময়ে হামলা চালাতে পারে।

২০১৪ সালের ২৯ জুন আবু বকর আল বাগদাদি নামের এক ব্যক্তিকে খলিফা ঘোষণা করে কথিত কথিত ইসলামিক স্টেট প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর ইরাকের সেনাবাহিনী সিরিয়ার সীমান্তবর্তী আর-রাওয়া শহরটি আইএসের দখল থেকে পুনরুদ্ধার করে। এটিই ছিল ইরাকে জঙ্গিদের সর্বশেষ শহর। ওই ঘটনার দুই দিন পর সিরিয়ার সেনাবাহিনী দেশটির বুকামাল শহর থেকে জঙ্গিদের হটিয়ে সিরিয়ার পতাকা উত্তোলন করে। শহরটি ছিল সিরিয়ায় আইএসের সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি। ইরাক ও সিরিয়ার এই দুইটি শহর পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের সন্ত্রাসের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে।