লেবাননে ট্রাম্পবিরোধী উত্তাল বিক্ষোভ, মিছিলে পুলিশি বাধা

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে লেবানন। রবিবার তারা দেশটির রাজধানী বৈরুতে মার্কিন দূতাবাসের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিয়েছে পুলিশ। এসময় বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর জলকামান ও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

লেবাননে বিক্ষোভ

উত্তর বৈরুতের আকওয়ার এলাকা থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি জেনিয়া খোর্দ বলেন, ‘রবিবার কয়েকশ বিক্ষোভকারী নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে আছে। আরব নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে ‘ফিলিস্তিনিরা আমাদের ক্ষমা কর, তারা আমাদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন তারা।

জেনিয়া বলেন, ‘‘বিক্ষোভকারীরা শুধু জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতির বিষয়েই ক্ষোভ জানায়নি। তারা মনে করছে, আরব নেতারা শুধু কথাই বলছে কিন্তু কোন উদ্যোগই নিচ্ছে না। এ কারণে এখানকার লোকজন নতুন ‘ইন্তিফাদা’র পাশাপাশি ফিলিস্তিনি নেতাদের শান্তি আলোচনা শেষ করার আহ্বান জানান।’’

বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মার্কিন দূতাবাস ভবনের প্রায় তিন কিলোমিটার আগে জলকামানসহ ব্যারিকেড দেয়। কাঁটাতার সরিয়ে সেই ব্যরিকেড ডিঙানোর চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির সরকারও সেখানকার যেকোন সম্পদ নষ্ট না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানায়।

১৯৪৭ সালে ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় থেকে লেবাননের ১২টি শরণার্থী শিবিরে অনেক ফিলিস্তিনি অবস্থান করছে। সরকারি হিসাব মতে তা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। তবে দিনকে দিন সে সংখ্যা কমে গেছে। অনেকেই ফিলিস্তিনে ফিরে যাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে ইউরোপ বা কানাডায় পাড়ি জমিয়েছে। আর এখানে অনেক সুবিধা না থাকায় অনেকেই লেবাননের বাইরে কোন স্থানে চলে গেছে।

জেনিয়া খোর্দ বলেন, গত বুধবার থেকেই লেবানন জুড়ে বিক্ষোভ হচ্ছে। সোমবার হিজবুল্লাহর ডাকে দক্ষিণ বৈরুতে আরও ব্যপক বিক্ষোভ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৬ ডিসেম্বর বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এরপর বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে।

শনিবার আরব লিগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক শেষে জোটের মহাসচিব বিবৃতি দেন। এতে আবুল ঘেইত বলেন, ‘ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী এবং এটি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’ তার মতে, মার্কিন নীতিতে পরিবর্তনের কারণে ‘ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর আরব বিশ্বের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে’।