পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনি রাজধানী স্বীকৃতি দিয়ে মুসলিম দেশগুলোর ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, সত্যের জয় হবেই। একটা সময় সবাই জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেবেন। বৃহস্পতিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের নেতাদের স্বীকৃতির প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, অনেক দেশই শেষপর্যন্ত জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেবেন এবং দূতাবাস সরিয়ে নেবেন। নেতানিয়াহু বলেন, ওআইসির বক্তব্যে তিনি অবাক হননি।
৬ ডিসেম্বর বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, শিগগিরই তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে জেরুজালেম নিয়ে যাওয়া হবে। এই ঘোষণার পর নিন্দার ঝড় উঠে আন্তর্জাতিক মহল থেকে। উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক জোটগুলো। কথা বলেছেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসও।
এই ইস্যুতে আলোচনা করবে বুধবার ১৩ ডিসেম্বর ওআইসি জরুরি বৈঠক ডাকেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। বৈঠকে জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামি সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)।ইস্তানবুলে আয়োজিত জরুরি সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ৫৭ মুসলিম দেশের এই জোট। বিশ্বের অন্যসব দেশকেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানায় তারা। জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়ে ওআইসির পক্ষ থেকে যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তাকে ইস্তানবুল ঘোষণা নামে ডাকা হচ্ছে।
ট্রাম্পের স্বীকৃতিকে আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থীও বলছে ওআইসি। তবে ওআইসির স্বীকৃতি মানতে নারাজ নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, আমরা জেরুজালেমকে শুধু ইসরায়েলি রাজধানী হিসেবে নয় বরং সব ধর্মাবলম্বী মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠা করবো।
তিরি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিরা বাস্তবতা মেনে নিলে শান্তি প্রক্রিয়া সহজ হবে।
বুধবারের বৈঠকে ইসরায়েলের অবৈধ বসতির বিরুদ্ধে জাতিসংঘকে ব্যবস্থার নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ওআইসি। তারা জানায়, এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে সহিংসতা দায় নিতে হবে ট্রাম্পকেই।
সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রকে অযোগ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি বলেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতির পর ফিলিস্তিনিরা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ভূমিকা মেনে নেবে না। ট্রাম্পের ওই ঘোষণা বিশ্ব শান্তিকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে।
মাহমুদ আব্বাস বলেন, ফিলিস্তিনিরা শান্তির পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও পবিত্র শহরের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের অনুভূতিকে উসকে দেওয়ায় ওয়াশিংটন আর ‘সৎ মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে গ্রহণযোগ্য থাকছে না।
ওআইসি সম্মেলনে অংশ নেন ২০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। তবে সৌদি আরব একজন সিনিয়র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাঠিয়েছেন। একই পথ অনুসরণ করেছে মিসরও।