জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া দেশগুলোকে দেখে নেওয়ার মার্কিন হুমকির মধ্যেই এবার জাতিসংঘকে একহাত নিলো ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতির বিরুদ্ধে বিশ্ব সংস্থাটির ভোটাভুটির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার ভাষায়, জাতিসংঘ হচ্ছে ‘মিথ্যার কারখানা’।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘জাতিসংঘ স্বীকার করুক না না করুক, জেরুজালেমই ইসরায়েলের রাজধানী। যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকভাবে এটা স্বীকার করতে ৭০ বছর সময় লেগেছে। জাতিসংঘেরও একই পথ অনুসরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।’
তিনি বলেন, অনেক দেশ ইসরায়েলের ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনছে। শেষ পর্যন্ত এটি মিথ্যাবাদীদের কারখানার একটি দেয়ালে পরিণত হবে।
এদিকে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি না দেওয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘের ভোটাভুটির আগে এ ইস্যুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সদস্যদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি নিকি হ্যালি। ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া দেশগুলোকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ইমেইল পাঠিয়ে সতর্ক করেছেন বেশ কয়েকটি দেশকে।
ইমেইলে নিকি হ্যালি লিখেছেন, ‘আপনারা যখন ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন তখন আপনাদের আমি জানাতে চাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ভোটকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে এই ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন। তিনি আমাকে বলেছেন, কোন কোন দেশ আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছে তা যেন জানাই। এই ইস্যুতে প্রত্যেকটি ভোটকেই আমরা পর্যালোচনার আওতায় রাখবো।
জেরুজালেম ইস্যুতে সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিলেও মার্কিন মিত্রদেশগুলোসহ পরিষদের বাকি ১৪টি দেশই এতে সমর্থন দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেওয়ার পর জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেন,‘আমরা সবাই যখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শান্তিপূর্ণ একটি পরিকল্পনার প্রত্যাশা করছিলাম,তখন দেশটি শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা স্ববিরোধী।’
জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনাকারী তুরস্ক সাধারণ পরিষদের জরুরি বৈঠকের দাবির পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে,‘সাধারণ পরিষদের নূন্যতম দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেলে প্রস্তাবটি পাস হবে। আমাদের ইতোমধ্যে তা আছে। এরপরও তুরস্ক এবং ওআইসি সদস্যরা ওই সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য কাজ করছে।’