ফিলিস্তিনের রামাল্লার উত্তরের আল জাজলোন শরণার্থী ক্যাম্প থেকে আটক কনিষ্ঠতম ফিলিস্তিনি বন্দিকে শুক্রবার মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ১৪ বছর বয়সী ওই বন্দি কিশোরীর নাম মালাক মোহাম্মদ ইউসেফ আল ঘালিজ। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর জানায়।
এর আগে গত মে মাসে এক দল ইসরায়েলিকে ছুরি নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগে আল ঘালিজকে আটক করা হয়েছিল। শুক্রবার ইসরায়েলের হাসারোন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আল ঘালিজ। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি নারী ও মেয়েদের ইসরায়েলি জেলে ‘কঠিন’ অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা সংগঠনের বন্দি কমিটির হিসাব মতে, মুক্তি পাওয়ার আগে আল ঘালিজই ছিল ইসরায়েলের কারাগারের কনিষ্ঠতম ফিলিস্তিনি বন্দি। তাকে রামাল্লাহ ও জেরুজালেমেরে মধ্যবর্তী কোয়ানদিয়া চেকপয়েন্টের কাছ থেকে আটক করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী।
এরই মধ্যে গত ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে্ ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর ফিলিস্তিন জুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিক্ষোভ। এর প্রতিবাদে ৮ ডিসেম্বর থেকে ফিলিস্তিনিদের ইন্তিফাদা বা সর্বাত্মক প্রতিরোধ অব্যাহত রয়েছে। এই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নারী ও শিশুসহ গ্রেফতার করা হয়েছে ৬২০ জনকে। এমনকি ছোট শিশুদের ধরে নিয়ে খাঁচায় বন্দি করে রাখার মতো বর্বরোচিত ঘটনার ফুটেজও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত রয়েছে।
প্যালেস্টাইনিয়ান প্রিজনার্স ক্লাব (পিপিসি)-এর হিসাবে, ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে গ্রেফতারকৃত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ১২ জন নারী এবং ১৭০টি শিশুও রয়েছে। এছাড়া আহত অবস্থায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগকেই রাতের অন্ধকারে সামরিক অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের একটা বড় অংশই ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ধরপাকড়ের শিকার হয়েছেন। এই ধরপাকড় থেকে মুক্তি পাননি বিদেশিরাও। আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে তুরস্কের তিন নাগরিককে তুলে নিয়ে যায় ইসরায়েলি বাহিনী। পরে অবশ্য দুজনকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।