ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে একটি ভবন বিধ্বস্ত হলেও হতাহতে খবর পাওয়া যায়নি। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এসব তথ্য জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তর গাজায় হামাসের সামরিক ভবনে তারা তারা ট্যাঙ্ক ও বিমান নিয়ে হামলা চালিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে আনাদোলু বলেছে, গাজাভিত্তিক প্রতিরোধ জোটের একটি সামরিক ভবনে ইসরায়েলি কামান দিয়ে হামলা চালানো হয়। একজন বলেন, ভবনটি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কারও আহত বা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে শুক্রবারেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই গাজা উপত্যকা থেকে ছোড়া হয়েছে। এরপর তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি গাজা সীমান্তের একটি লোকালয়ের কাছে মাটিতে আঘাত হানলেও তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি।
ইসরায়েলি দৈনিক পত্রিকা ইডিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এসদোত নেগেভ ও শার হানেগেভ গ্রামের কাছে বিমান হামলার সাইরেন শোনা গেছে। আয়রন ডোম বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে গাজা উপত্যকা থেকে ছোড়া দুটি রকেট হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। তৃতীয় রকেটটি শার হানেগেভ গ্রামের একটি স্থাপনায় আঘাত করে।
এদিকে একই দিন গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৪০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন নারী মুখপাত্র বলেন, সেনাদের জন্য হুমকি হিসেবে প্রতীয়মান ‘প্রধান উসকানিদাতার’ ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। ওই ব্যক্তিরা সীমান্ত বেষ্টনীর ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করছিল। বিক্ষোভের তীব্রতা বেশি ছিল গাজা উপত্যকায়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেয় ‘আমেরিকা নিপাত যাক, ইসরায়েল নিপাত যাক, ট্রাম্প নিপাত যাক।’
৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতির পরই নতুন করে রাজপথে নামে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা। বিপরীতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নারী ও শিশুসহ গ্রেফতার করা হয়েছে ৬২০ জনকে। এমনকি ছোট শিশুদের ধরে নিয়ে খাঁচায় বন্দি করে রাখার মতো বর্বরোচিত ঘটনাও ঘটেছে।