সিরিয়ার পূর্ব ঘোউতা থেকে বেরিয়ে আসছেন অসুস্থ বাসিন্দারা

সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ দামেস্কের পাশের পূর্ব ঘোউতা এলাকা থেকে এখনও অসুস্থ মানুষকে উদ্ধার করা হচ্ছে। সর্বশেষ শুক্রবার গুরুতর অসুস্থ ২৯ জনকে উদ্ধার করেছে সহায়তা সংস্থাগুলো। রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটি ও সিরিয়ান আরব রেড ক্রিসেন্টের যৌথ প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ৮৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

উদ্ধারকৃত সিরিয় শরণার্থী

সিরিয়ান আরব রেড ক্রিসেন্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার বলা হয়, সর্বশেষ উদ্ধারকৃত রোগীদের মধ্যে ১৭ জন শিশু, ৬ জন নারী ও ৬ জন পুরুষ রয়েছে। সংকটাপন্ন এসব রোগিকে উন্নত সুবিধা ও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। রোগীদের পরিবারকেও অবরুদ্ধ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ শিশু, ৩১ নারী ও আটজন পুরুষ রয়েছে।

চার লাখ বাসিন্দার পূর্ব ঘোউতা এলাকাটি ২০১৩ সাল থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে সিরিয় সরকারি বাহিনী। সহায়তা সংস্থাগুলো ও সিরিয় সরকারের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সেখান থেকে এসব মানুষকে উদ্ধার করা হচ্ছে। সিরিয় বিদ্রোহীদের সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পূর্ব ঘোউতা এলাকার জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই শিশু। ওই এলাকায় খাবার ও চিকিৎসা সেবার সরবরাহ খুবই অপ্রতুল।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সিরিয়ার অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ জানায়, ‘এলাকাটির উত্তর-পশ্চিম এলাকায় সিরিয় সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পর বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাশিয়ান বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে সেখানকার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়েছে। সরকারি বাহিনীর অব্যাহত সাফল্যের মধ্যেই শুক্রবারের লড়াইয়ে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে। আর এখন দক্ষিণ ইদলিবের আবু দালি গ্রামে লড়াই চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

২০১১ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে সৃষ্ট গৃহযুদ্ধতে এ পর্যন্ত প্রাণ গেছে তিন লক্ষাধিক মানুষের। বছরের পর বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের কারণে সিরিয়া এখন বিধ্বস্ত জনপদ। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর শরণার্থী শিবিরেও প্রতিদিন বাড়ছে সিরীয় শরণার্থীর সংখ্যা। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ৪০ লাখের মতো শরণার্থী তাদের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য নথিভুক্ত হয়েছে।