গোপনে ২০ জন ইরাকি কর্মকর্তা ইসরায়েল ভ্রমণ করেছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা অস্বীকার করেছে ইরাক। রাশিয়া টুডে নামে একটি পত্রিকায় এক ইসরায়েলি শিক্ষাবিদের বরাত দিয়ে এ অভিযোগ করা হয়। এতে দাবি করা হয়, আরবরা জায়নবাদী রাষ্ট্রটির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট মনিটর এই খবর জানিয়েছে।
রাশিয়ার টুডে’র খবরে বলা হয়, ইরাকি কর্মকর্তা মিথাল আল আলৌসি ও আহমেদ আল জালাবি ২০০৭ সালে ইসরায়েল ভ্রমণ করেন। এরপর ২০০৯ সালে লাজবোউরি, ২০১০ সালে হানান আল ফাতলাওবি, ২০১১ সালে হুসেইন আল সাহরাস্তানি ইসরায়েলে যান। সাক্ষাৎকারে ওই শিক্ষাবিদ এটা ‘ইরাকিদের ভণ্ডামি’ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে ওই শিক্ষাবিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ইরাকের কোনও কর্মকর্তা কখনও ইসরায়েল ভ্রমণ করেনি বলে দাবি করেছে দেশটি।
অভিযুক্তদের তালিকায় থাকা ইরাকের উত্তরের নিনাওয়া প্রদেশের সাবেক গর্ভনর আথিল আল নুজাইফাই এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘যারা ইসরায়েলকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছে তাদের কাছে এই অভিযোগ কোনও বিষয় না। কিন্তু আমি এটা মেনে নিতে পারি না। কারণ আমি ইরাকের সন্তান, মসুলের সন্তান, আমি ফিলিস্তিন ও জেরুজালেমকে ভালবাসি। আর আমি ধর্মীয়, জাতীয় ও দেশপ্রেমের বিশ্বাস নিয়ে বড় হয়েছি।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার মতো মানুষ চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েও ফিলিস্তিন ও জেরুজালেমকে ভুলতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলে সব সমস্যার কারণ ইসরায়েল। তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করা মানে দেশ, ধর্ম ও সমাজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা।’
তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই ফিলিস্তিনের শহরগুলো ঘুরতে চাই, আমাদের জেরুজালেমকে দেখতে চাই, আল আকসা মসজিদে নামাজ পড়তে চাই। তবে যারা আমাদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফিলিস্তিনি জনগণকে বিতাড়িত করেছে তাদের সমর্থন করা খুবই লজ্জার।’