ট্রাম্পের বিতর্কিত জেরুজালেমনীতি ঘোষণার জেরে ফিলিস্তিনিদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যকে ‘বর্ণবাদী’ বলে উল্লেখ করেছে ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন হামাস। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেরুজালেম পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রেইডম্যান ফিলিস্তিনিদেরে প্রতিক্রিয়াকে ‘কুৎসিত, অবাঞ্ছিত উত্তেজক ও সেমিটিকবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেন।
শনিবার এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র ফোউজি বারহোউম বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ফ্রেইডম্যানের বিবরণে তার বর্ণবাদ, ইতিহাসকে অবহেলা, ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞাই প্রতিফলিত হয়েছে।’
বারহোউম বলেন, ‘এই নীতিতে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে সব ধরনের অপরাধ ও নিষেধাজ্ঞায় তারা (মার্কিনীরা) দখলদারিত্বের অংশীদার।’ ফ্রেইডম্যানের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে ফিলিস্তিনের সম্পর্ক ছিন্ন করা ও অসলো চুক্তি বাতিলেরবৈধতা দিয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা সংস্থা ও ইসরায়েলের মধ্যে অসলো শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়। ওই চুক্তিতে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব শাসন ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়। চুক্তিতে ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র প্রতিরোধ থেকে বিরত থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহায়তা বাড়ানোর কথা বলা হয়।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মূলে রয়েছে জেরুজালেম। ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে মনে করে পূর্ব জেরুজালেমকে। ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিলে ফিলিস্তিন জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েক হাজার।