ক্যালিফোর্নিয়ায় গাঁজার বৈধতা

কেবল ওষুধ হিসেবে নয়, নিতান্তই বিনোদিত হতেও গাঁজা গ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া। যাদের বয়স একুশ পেরিয়েছে, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে তারা এক আউন্স (২৮ গ্রাম) গাঁজা সঙ্গে রাখতে পারবেন। বাড়িতে চাষ করা যাবে ৬টি গাঁজাগাছ। এই অনুমোদনের বিরোধিরা বলছে, নতুন আইন মাদকের প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি যুব সমাজকে মাদক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করবে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, কয়েক বছরের মধ্যে এটা হাজার কোটি ডলারের শিল্প হয়ে উঠবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।  গাঁজার বৈধতা দিয়েছে ছয় মার্কিন অঙ্গরাজ্য

১৪ মাস আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি গাঁজার বৈধতা সম্বলিত প্রস্তাব-৬৪ এর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ানরা। এরপর গাঁজা বিক্রির উপর জটিল নিয়মের করের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সমালোচকরা বলছেন, এই জটিলতার কারণে মাত্র কয়েকটি বিক্রয়কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোক্তা, উৎপাদক ও বিক্রয়কারীরা রাজ্যের বিশাল কালো বাজারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।  

বৈশ্বিক গাঁজার বাজার নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান আর্কভিউয়ের প্রধান নির্বাহী ট্রয় ডায়টন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘প্রথম এক-দুই বছর এটা জগাখিচুড়ি হয়ে যাবে। এ সময় গাঁজার দামে অস্থিরতা দেখা যাবে।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সম্পদশালী ও জনবহুল রাজ্যটির জন্য তা বিশাল সম্ভাবনাময় পুরস্কার নিয়ে আসবে। ১৯৯৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়া প্রথম রাজ্য হিসেবে চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য গাঁজার অনুমোদন দেয়।

আর্কভিউয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে কালো বাজারে বছরে ৫১০ কোটি ডলারের গাঁজা কেনাবেচা হয়। বৈধতা দেওয়া হলে ২০২১ সালের মধ্যে তা ৫৮০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। নতুনভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য চালু হওয়া বাজার থেকে প্রতিবছর দেশকে ১০০ কোটি ডলার ট্যাক্স যোগাবেন বৈধ ক্রেতারা।

অনুমোদিত আইন অনুযায়ী বৈধ ক্রেতারাও জনসম্মুখে বা স্কুল থেকে তিনশ মিটারের মধ্যে এই মাদক গ্রহণ করতে পারবে না। এছাড়া গাড়ি চালানোর সময়ও মাদকটি গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। কলোরোডা, ওয়াশিংটন, ওরিজন, আলাস্কা, নেভাদা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় গাঁজা বিক্রির বৈধতা রয়েছে। এখন প্রতি পাঁচজনের একজন আমেরিকান বৈধভাবে গাঁজা কিনতে পারবেন। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার এখনও হেরোইন ও কোকেনের মতো গাঁজাকে নিষিদ্ধ বস্তু হিসেবেই মনে করে।