ইরানের অভিযোগ কাণ্ডজ্ঞানহীন: যুক্তরাষ্ট্র

ইরানি বিক্ষোভের নেপথ্যে মার্কিন উসকানির অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন মদদের অভিযোগকে কাণ্ডজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়েছে তারা। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র উসকানি দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ তুলেছে তেহরান। এর বিপরীতে বিক্ষোভকে ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ উল্লেখ করে এ নিয়ে জাতিসংঘে জরুরি বৈঠক আহ্বানের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘে ‍নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি।  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র খবর থেকে এসব কথা জানা গেছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি

ইরানে গত বছরে শুরু হওয়া ২৮ ডিসেম্বরের বিক্ষোভ এরইমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। তেহরান এই বিক্ষোভে সৌদি আরবসহ যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্যের মতো পশ্চিমা দেশগুলোর ইন্ধন খোঁজার চেষ্টা করলেও এই অভিযোগ মানতে নারাজ রাজনীতি বিশ্লেষকরা। বিক্ষোভের নেপথ্যে অর্থনৈতিক কারণকেই বড় করে দেখছে তারা। বিশ্লেষকদের বক্তব্যের সমর্থন মিলেছে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান আর তৎপরতাতেও। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভটি এরইমধ্যে রূপান্তরিত হয়েছে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক সমাবেশে।

আন্দোলন দমনে পুলিশের গুলিতে এ পর্যন্ত ২২ জন নিহত হয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, সরকারবিরোধী তৎপরতায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাজ্য-সৌদি আরবের মতো বিদেশি শক্তির ইন্ধন রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়ে পোস্ট করা ট্রাম্পের টুইটের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুর রেজা রাহমানি ফাজলি বলেছেন, ‘শত্রুরা এখন নিজেদের ইরানি জনগণের বন্ধু হিসেবে তুলে ধরছে।’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিও দেশটিতে উত্তেজনা ছড়ানোর জন্য ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শত্রু’দের দায়ী করেছেন। তাকে উদ্ধৃত করে ইরানের সরকারি ওয়েবসাইটে বলা হয়, ‘সম্প্রতি ইসলামি প্রজাতন্ত্রে সংকট তৈরির জন্য ইরানের শত্রুরা নগদ অর্থ, অস্ত্র, রাজনীতি এবং গোয়েন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন কিছুকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, শত্রু আখ্যা দিয়ে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র আর আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবকে নিশানা বানিয়েছে ইরান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি

জাতিসংঘে ‍নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি ইরানি অভিযোগকে ‘হাস্যকর’  উল্লেখ করে বলেন, ‘ইরানের জনগণ তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে। স্বাধীনতাপ্রেমী সব মানুষের উচিত ওই আন্দোলনে শরীক হওয়া’। এ নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকবে বলেও জানান হ্যালি। বলেন, ‘ইরানের আন্দোলনের বিষয়ে আমরা চুপ থাকতে পারি না। ইরানে স্বাধীনতার উপর হামলা হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যে হত্যা করা হয়েছে। শত শত মানুষকে গ্রেফতার করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের আশঙ্কা, যদি ইরানের একনায়কতান্ত্রিক নেতা নির্দেশ দেন তাহলে আরও খারাপ কিছু ঘটবে।’ নিউ ইয়র্কে বিবিসির প্রতিনিধি নাদা তাওফিক বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি আন্তর্জাতিক হুমকির বিষয়গুলো নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ কাজ করে। তবে ইরান নিয়ে বৈঠক ডাকার ব্যাপারে পর্যাপ্ত সমর্থন পাওয়া যাবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়।

ইরানে বিক্ষোভ

 

ইরানের সামরিক বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ জাযায়েরি।  বিক্ষোভকারীদের 'মুষ্টিমেয়ে দাঙ্গাকারী' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ট্রাম্প এদের সমর্থন দিয়ে ওয়াশিংটনের ইরান-বিরোধী নতুন ষড়যন্ত্রকে সামনে এনেছেন। মার্কিন প্রশাসন ইরানের জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তোলাকে নতুন ষড়যন্ত্রমূলক প্রকল্প আখ্যা দিয়েছেন জেনারেল জাযায়েরি। মার্কিন ও আন্তর্জাতিক ইহুদিবাদী চক্র ইরানের ইসলামি বিপ্লবের বিরুদ্ধে নতুন চক্রান্ত করছে। ইরানের সংস্কারবাদী ও প্রগতিশীল সংসদ সদস্যরাও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ফায়দা তোলার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন।