যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যেই বাতিল হচ্ছে হাফিজ সাঈদের দাতব্য সংস্থার লাইসেন্স

হাফিজ সাঈদযুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকায় থাকা লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদ পরিচালিত দাতব্য সংস্থাগুলো বাজেয়াপ্তের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। দেশটির গত ১৯ ডিসেম্বরের এ সংক্রান্ত নথি দেখতে পাওয়ার দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। দেশটির কর্মকর্তারাও সংবাদমাধ্যমটিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির জন্য বরাদ্দ হওয়া সামরিক সহায়তার ২২ কোটি ডলার ছাড় করতে বিলম্ব করছিলো। সর্বশেষ গত ২ জানুয়ারি তারিখে ২০১৬ সালের জন্য বরাদ্দ হওয়া সেই অর্থ আটকে দেওয়া হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাকিস্তানবিরোধী টুইটের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই হাফিজ সাঈদের ব্যাপারে আরও কঠোর হচ্ছে ইসলামাবাদ। সম্প্রতি টুইটারে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বোকার মতোই পাকিস্তানকে গত ১৫ বছরে ৩৩ বিলিয়ন ডলার সহযোগিতা দিয়েছে। বিপরীতে তারা আমাদের মিথ্যা ও শঠতা ছাড়া কিছুই দেয়নি। তারা আমাদের নেতাদের বোকা ভাবছে। আমরা আফগানিস্তানে যেসব সন্ত্রাসীদের তাড়া করছি তাদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে পাকিস্তান। আমাদের কোনও সহযোগিতা করছে না। আর না।’ তবে ট্রাম্পের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড হেলকে তলব করেছে ইসলামাবাদ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসন ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর সব প্রাদেশিক ও ফেডারেল সরকারের বিভাগগুলোকে একটি গোপন আদেশ পাঠায়। এতে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত পরিকল্পনা জানানো হয়েছে। এ সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের বেশ কয়েকটি বৈঠকে উপস্থিত থাকা তিনজন সরকারি কর্মকর্তা দাতব্য সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানের আলোচনার কথা নিশ্চিত করেছেন।

‘গোপনীয়’ চিহ্নিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৯ ডিসেম্বরের নথিতে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে দুটি দাতব্য সংস্থা বাজেয়াপ্ত করার বিস্তারিত পরিকল্পনা পাঠাতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এবং পাঁচটি রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাফিজ সাঈদ পরিচালিত দাতব্য সংস্থা দুইটি হচ্ছে জামাত-উদ দাওয়া (জেইউডি) ও ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন। সংস্থা দুইটিকে যুক্তরাষ্ট্র লস্কর-ই-তৈয়বার ‘সন্ত্রাসের মঞ্চ’ বলে দাবি করে থাকে।

২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে ১৬৬ জনকে হত্যার ঘটনায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র লস্কর-ই-তৈয়বাকে দায়ী করে থাকে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন সাঈদ। পাকিস্তানের একটি আদালত ওই হামলায় তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ না থাকার কথা জানিয়ে তাকে মুক্তি দিয়েছে।

দাতব্য সংস্থাগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হাফিজ সাঈদকে পাওয়া যায়নি। তবে জামাত-উদ দাওয়ার মুখপাত্র ইয়াহিয়া মুজাহিদ বলেছেন, সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলে আদালতে যাবেন তারা। সরকারের সিদ্ধান্তকে অবৈধ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘চুপ থাকবো না। আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো।’

১৯ ডিসেম্বরের নথিতে শুধু হাফিজ সাঈদ পরিচালিত দুই সংস্থারই নাম রয়েছে। অভিযানের বিষয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহসান ইকবাল বলেছেন ‘অর্থ সংগ্রহ বন্ধ আর পাকিস্তানের বাইরে তা খরচের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার ‍নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।’  

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রয়টার্সকে বলেন, মার্কিন চাপে নয় বরং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমরা কাউকে খুশি করছি না। আমরা দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের আচরণ করছি। যাতে নিজেদের দেশের মানুষ আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করতে পারি।’

হাফিজ সাঈদ বরাবরই সন্ত্রাসে অর্থ যোগানোর অভিযোগ করে আসছেন। তার দাবি নিজের প্রতিষ্ঠিত দাতব্য সংস্থাগুলোর কাজের মাধ্যমে ইসলামি সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান তিনি।