৬৪টি ‘বন্ধু’ দেশের প্রতিনিধিদের সংবর্ধনা দিলো যুক্তরাষ্ট্র

জেরুজালেম ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে থাকা দেশগুলোকে সংবর্ধনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।  বুধবার (৩ জানুয়ারি) রাতে জাতিসংঘের মার্কিন দূত নিকি হ্যালি ৬৪টি দেশের প্রতিনিধিদের জন্য এই সংবর্ধনার আয়োজন করেনমার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সাধারণ পরিষদের জরুরি বৈঠকে ট্রাম্পের নীতিকে সমর্থনকারী, ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং ভোটাভুটিতে অনুপস্থিত থাকা দেশগুলোকে সংবর্ধিত করা হয়েছে। 
noname
৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে তুমুল নিন্দা ও প্রতিবাদ জারি রয়েছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত কার্যকরকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মোকাবিলা করতে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব তুলেছিল আরব দেশগুলো। পরিষদের ১৪ সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এতে ভেটো দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি উপেক্ষা করে সাধারণ পরিষদে ১২৮-৯ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। ভোটদানে বিরত থাকে ৩৫টি দেশ। ২১টি দেশ ভোটাভুটিতে অনুপস্থিত থাকে।
সাধারণ পরিষদে জেরুজালেমের মার্কিন স্বীকৃতির বিরোধিতা না করা দেশগুলোকে সংবর্ধিত করা হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন হ্যালি। বুধবার জাতিসংঘের যুক্তরাষ্ট্র মিশনে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এর নাম দেওয়া হয় ‘ফ্রেন্ডস অব ইউএস’। সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সাধারণত জাতিসংঘের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানগুলোতে সব দেশ না হলেও বেশিরভাগ দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে ইস্যুর ওপর নির্ভর করে ছোটখাটো সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও নৈশ ভোজ হতে পারে। তবে বেশিরভাগ দেশকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে জাতিসংঘের ক্ষমতাধর কোনও সদস্য দেশের এই ধরনের আয়োজন খুব বিরল ঘটনা।’
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের ইসরায়েলি দূত ড্যানি ড্যানন মার্কিন দূত হ্যালির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সাহসী আখ্যা দেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে সিএনএন-কে তিনি বলেন, ‘প্রথমত এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন দূত হ্যালির সাহসী সিদ্ধান্ত। এই সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানাই।’
বেশিরভাগ দেশকে আমন্ত্রিত না করে আয়োজিত এই ধরনের সংবর্ধনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আগত দূতরা কূটনৈতিক কায়দায় এর উত্তর দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে সিএনএন। জাতিসংঘের হাঙ্গেরির দূত কাতালিন বোগ্যায় বলেন, ‘একে সবসময়ই বিশেষ সুবিধা হিসেবে দেখা হয়, আপনারই সহকর্মী কোনও দূত যদি আমন্ত্রণ জানায় তো আনন্দ করুন। এটা জাতিসংঘের সংস্কৃতি। সেকারণে আমিও এই আয়োজনে অংশ নিতে পেরে খুশি। নববর্ষের রাতের পর এটি প্রথম জমায়েতও। আমাকে একটি আমন্ত্রণ পত্র পাঠানো হয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুদের আমন্ত্রিত করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু বিবেচনা করায় আমরা খুব খুশি।’
জাতিসংঘের ইউক্রেনের দূত ভোলোদিমির ইয়েলশেনকো বলেন, ভিন্ন ভিন্ন কারণে ভিন্ন ভিন্ন সংবর্ধনা আয়োজনে তিনি সমস্যার কিছু দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি ভালো চিন্তা। আয়োজক দেশের অধিকার আছে এমনটা করার।’
সংবর্ধনার আগেরদিন মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে হ্যালি বলেন, ‘ডিসেম্বরেই বলেছিলাম,আমরা জেরুজালেম প্রশ্নে ভোটাভুটির কথা ভুলে যাব না। যারা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের (জেরুজালেম প্রশ্নে) বিরোধিতা করেনি তাদেরকে আমরা আগামীকাল সংবর্ধনা দিতে যাচ্ছি।’ 
২১ ডিসেম্বর সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে জেরুজালেম প্রশ্নে মার্কিন পদক্ষেপকে সমর্থন জানায় গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, পালাউ, দ্য মার্শাল আইল্যান্ডস, মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, টোগো ও ইসরায়েল। এছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটির পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দান থেকে বিরত থাকে কানাডা ও মেক্সিকোসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫টি বন্ধু রাষ্ট্র। ২১টি দেশ ভোটাভুটিতে অনুপস্থিত থাকে। আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো এর আগে ফিলিস্তিনের সমর্থনে থাকলেও সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেয়।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে হ্যালি বলেন, ‘ডিসেম্বরেই বলেছিলাম, আমরা জেরুজালেম প্রশ্নে ভোটাভুটির কথা ভুলে যাব না। যারা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের (জেরুজালেম প্রশ্নে) বিরোধিতা করেনি তাদেরকে আমরা আগামীকাল সংবর্ধনা দিতে যাচ্ছি।’ ট্রাম্পের নীতিকে সরাসরি সমর্থনকারী ৮ দেশের মধ্যে ইসরায়েল বাদে বাকিরা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল।