ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পর এবার জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের রোষানলে পড়লো ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী দল হামাস। হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে তাদের পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে জঙ্গিরা। তাদের দাবি, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদ করতে ব্যর্থ হওয়ায় হামাসের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২২ মিনিটের ওই ভিডিওতে কমলা রঙের পোশাক পরিহিত এক বন্দিকে চোখ বেঁধে হাঁটু নিচু করে বসিয়ে রেখে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। আইএসের দাবি, ওই ব্যক্তি হামাসের সামরিক শাখাকে সহযোগিতা করেছিল।
ভিডিওতে আবু কাজেম আল মাকদিসি নামের এক জঙ্গি ঘোষণা করে, ‘হামাসের কাছে কখনোই আত্মসমর্পণ করা হবে না। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, সাইলেন্সড পিস্তল এবং বোমা ব্যবহার করা হবে। তাদের আদালত ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলা চালানো হবে। কারণ এগুলো তাদের ক্ষমতা ধরে রাখার মূল চালিকাশক্তি।’
২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই স্বীকৃতির ঘোষণার পরই এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন ফিলিস্তিনিরা। ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইন্তিফাদা বা সর্বাত্মক প্রতিরোধের ডাক দেয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। তবে আইএসের দাবি, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদ করতে ব্যর্থ হয়েছে হামাস।
ইরাক, সিরিয়ার বাইরে ইউরোপ-আমেরিকায় একাধিক হামলার দায় স্বীকার করলেও এখনও পর্যন্ত ইসরায়েল ইস্যুতে নীরব আইএস। জঙ্গিদের অধিকৃত অঞ্চলে ঢুকেও ফিরে আসা জার্মান সাংবাদিক জারগেন টোদেনহোফার-এর মতে, পুরো বিশ্বে একমাত্র ইসরায়েলকেই ভয় পায় আইএস। তিনি বলেন, ‘আইএস মনে করে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে লড়াই করে জিততে পারবে। কিন্তু ইসরায়েলিরা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং গেরিলা যুদ্ধে অপরাজেয়।’ প্রায় ১০ দিন আইএস নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে কাটান ওই সাংবাদিক। ফিরে আসার পর জিউশ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ওই জার্মান সাংবাদিক।
আইএসের হামলার আশঙ্কায় থাকা দেশগুলোর মতো ইসরায়েলকে উদ্বিগ্ন মনে হয় না। ফিলিস্তিনের পক্ষে না দাঁড়ানোর ফলে ইসরায়েল আইএসকে শুধু আরব মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। যার পরিণতিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির তৈরি হবে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে। আর ইসরায়েলও পশ্চিমা বিশ্বকে দেখাতে চায় যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলই একমাত্র স্থিতিশীল রাষ্ট্র।