যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাণিজ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের কানাডার

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করেছে কানাডা। আমদানিকৃত পণ্যে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে কিনা এবং উৎপাদন খরচের কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কিনা তা জানতে যুক্তরাষ্ট্র যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা চালায় তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে দেশটি। দেশটির দাবি, সংরক্ষণবাদী বাণিজ্য নীতি বজায় রাখতে আমদানিকৃত পণ্যের উপর অন্যায্যভাবে কঠোর শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র কানাডার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে তা নাকচ করে দিয়েছে। ডেইরি শিল্প, বিমান বিক্রি, নাফটা নিয়ে পুনঃ আলোচনার প্রচেষ্টাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যখন দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন চলছে তখনই এই অভিযোগ দায়ের করা হলো।

ট্রুডো ও ট্রাম্প
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৩২ পৃষ্ঠার অভিযোগ দায়ের করেছে কানাডা। ২০ ডিসেম্বর অভিযোগটি দায়ের করা হলেও বুধবারই (১০ জানুয়ারি) সংস্থার সদস্যদেরকে এই ব্যাপারে অবহিত করা হয়। জানানো হয়, এই নিয়ে ৬০ দিন ধরে আলোচনা হবে। আর এই সময়ের মধ্যে যদি সমাধানে না পৌঁছানো যায় তবে ডব্লিউটিও’র একটি প্যানেল মামলাটির নিষ্পত্তি করবে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের পুরনো সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। কানাডার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অন্যায়ভাবে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যহারের হিসেব করে, অন্যায্যভাবে শাস্তিমূলক শুল্ক ঘোষণা করে এবং ওই পণ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজেদের বক্তব্য এবং প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দেয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লিঘথিজার কানাডার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কানাডার দাবিটি ভিত্তিহীন এবং এর মধ্য দিয়ে কেবল দেশটির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের অঙ্গীকারের যুক্তরাষ্ট্রের আস্থাই ক্ষুণ্ন হবে।’

বিবিসি জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শুরুর পর ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দফতর ৮০টিরও বেশি সংরক্ষণবাদী এবং আমদানি শুল্ক আরোপ সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৬ শতাংশ বেশি। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে করা পরীক্ষাগুলো শেষ পর্যন্ত উচ্চ আমদানি শুল্ক হার নির্ধারণের শঙ্কা তৈরি করে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দফতর কানাডীয় নিউজপ্রিন্স প্রস্তুতকারকসহ আরও কয়েকটি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেছে।