সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় ‘নিহত ১৫০ আইএস সদস্য’

সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের একটি সদর দফতরে বিমান হামলায় প্রায় ১৫০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, শনিবার আল-শাফায় চালানো বিমান হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

_99726661_mediaitem99726660 (1)বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত আইএস এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।

মার্কিন জোটের দাবি, এই হামলায় কোনও বেসামরিক নিহত হননি। ২০১৪ সাল থেকে ইরাক ও সিরিয়ায় তাণ্ডব চালাতে থাকা আইএস তাদের ৯৮ শতাংশ দখল হারিয়েছে।  

সিরিয়ায় খুবই অল্প কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে আছে আইএসের। মার্কিন সমর্থিত কুর্দি ও আরব সেনাদের নিয়ে গঠিত সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স এবং রাশিয়া ও ইরান সমর্থিত বাহিনীর হামলায় আইএস প্রায় নির্মূল হয়ে গেছে।

মার্কিন জোটের বিবৃতিতে বলা হয়, আইএসের সদর দফতরে তারা অনেক গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চালিয়েছে। এক্ষেত্রে এসডিএফ সেনারাও তাদের সহযোগিতা করেছে। তারা জানায়, ‘গোয়েন্দা তথ্য ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কারণে আমরা বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছি।’

জোটের কমান্ডার মেজর জেনারেল জেমস জেরার্ড বলেন, ‘এই হামলার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে আমাদের আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই এখনও শেষ হয়ে যায়নি।’

আইএসের হামলা থেকে কুর্দি শহর কোবানিকে রক্ষার জন্য ২০১৪ সালে সিরিয়ায় প্রথম অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। আঞ্চলিক নেতারা আশঙ্কা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের সঙ্গে মিত্রতা রাখলে আইএস নিধনের পর তা তুরস্কের জন্য ঝুঁকি হয়ে উঠবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের সামরিক সদস্যদের সেখান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে ওয়াইপিজিকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিতে হবে।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, তারা কুর্দি বাহিনীর নেতৃত্বে ৩০ হাজার সদস্যের একটি সীমান্তরক্ষী বাহিনী গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, তুরস্ক তার প্রস্তাবের ভুল ব্যাখ্যা করেছে। তবে কুর্দিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন মাখামাখি ভালোভাবে নেয়নি আঙ্কারা।

আগে কুর্দিরা রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভারসাম্য মেনে চলতো। তারা আসাদ শাসিত ঐক্যবদ্ধ সিরিয়ার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হতে চায়নি। প্রায় ২০ লাখ অধিবাসীর আফরিনকে সুরক্ষা দিয়ে আসছিল মস্কো। তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে তুরস্ক এতোদিন সেখানে হামলা চালাতে পারেনি। তবে কুর্দিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানোর পর কুর্দি বিদ্রোহীদের ওপর থেকে ছাতা সরিয়ে নেয় রাশিয়া। আফরিনে তুর্কি অভিযানে বাধা না দেওয়ার ঘোষণা দেয় দেশটি। তুরস্ক হামলা চালানোর আগে সেখান থেকে নিজেদের পর্যবেক্ষকদেরও সরিয়ে নিয়েছে মস্কো।