গ্রেসির পদত্যাগ: বেতন কমাতে রাজি বিবিসি’র পুরুষ উপস্থাপকেরা





নারীর প্রতি কাঠামোগত বেতন বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র চীনা সংস্করণের সম্পাদক ক্যারি গ্রেসির পদত্যাগের পর নিজেদের বেতন কমাতে সম্মত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকজন পুরুষ উপস্থাপক। আনুষ্ঠানিক অথবা নীতিগতভাবে বেতন কমানোর এই প্রস্তাবে নিকি ক্যাম্পবেল, জেরেমি ভাইন, জন হামফ্রিস, হাউ এডওয়ার্ডসের মতো সুপরিচিতি পুরুষ উপস্থাপকেরা সম্মতি দিয়েছেন বলে বিবিসির মিডিয়া এডিটর আমল রাজন জানিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, বেতন সমতা নিয়ে আগামী সপ্তাহে একটি স্বাধীন নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। অবশ্য ওই সপ্তাহেই এই বিষয়ে আলোচনার জন্য এমপিদের একটি কমিটির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে বিবিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের।

বিবিসি কয়েকজন পুরুষ উপস্থাপক।

বেতন কাঠামোতে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়ে জুলাইয়ে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন বিবিসির কর্মীরা। গ্রেসি ও বিবিসি ইউরোপের সম্পাদক কাটিয়া এডলারও স্বাক্ষর করেছিলেন তাতে। তারই ধারাবাহিকতায় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নিজের ব্লগসাইটে গ্রেসি লেখেন, যেখানে বেতন সমতা নিয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে লড়াই করছেন তখন তিনি এতো উচ্চ পর্যায়ের পদে নিয়োজিত থাকতে পারেন না। তাই নিউজরুমে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। প্রত্যাশা জানিয়েছেন, সেখানে বেতন দেওয়ার সময় তার প্রতি বৈষম্য করা হবে না।

শুক্রবার সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়েছে, পুরুষ উপস্থাপকদের বেতন কমানো নিয়ে বিবিসি’র উত্তর আমেরিকা সম্পাদক জন সোপেলের সঙ্গে বিবিসি কর্পোরেশন আলোচনা করবে। বিবিসি কর্পোরেশনের বলছে, বেতনে সমতা আনতে আমরা এরইমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। এছাড়া আগামী সপ্তাহে এই ইস্যুতে আমরা আরও কিছু খবর জানাবো।

গ্রেসির পদত্যাগের পর ব্রিটেনের রাজ চুক্তি অনুযায়ী গঠিত পাবলিক সার্ভিস সম্প্রচারকারী বিবিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠায় ব্রিটেনের সংসদ সদস্যদের একটি সিলেক্ট কমিটি। আগামী সপ্তাহে ওই কমিটির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে গ্রেসির। এরপরই বিবিসির মহাপরিচালক টনি হল, তার সহকারী অ্যানে বালফোর্ড এবং নিউজ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পরিচালক ফ্রান আনসওরথ ওই কমিটির মুখোমুখি হবেন।

অবশ্য লন্ডনের সংবাদকক্ষে ফিরে আসা গ্রেসি বলছেন, তিনি আশা করছেন এখন থেকে সমবেতন পাবেন।

ক্যারি গ্রেসি

গত অক্টোবরে বড় সংস্থাগুলোর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিবিসির বেতন বৈষম্য ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় বৈষম্য ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। এছাড়া একজন বিচারকের নেতৃত্বে গঠিত একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কাঠামোগত বৈষম্যের কোনও প্রমাণ তারা পাননি। উপস্থাপক, সম্পাদক আর প্রতিনিধিদের বেতন নিয়ে আগামী সপ্তাহে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বিবিসি।

গত গ্রীষ্মে চার লাখ থেকে চার লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৯ ইউরো আয়ের তালিকায় ছিলেন পুরুষ উপস্থাপক নিকি ক্যাম্পবেল। বিবিসির প্রকাশ করা তালিকায় দেখা যায়, গত জুলাইতে সম্প্রচারে থাকা কর্মীরা দেড় লাখ ইউরোরে বেশি আয় করেছেন। তার দুই-তৃতীয়াংশ ছিরেন পুরুষ। এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন ক্রিস ইভানস। ২০১৬-১৭ সালে তার আয় ছিল ২২ লাখ থেকে ২২ লাখ ৫০ হাজার ইউরোর মধ্যে। এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া নারী ছিলেন ক্লদিয়া উইন্কলেম্যান। তার আয় ছিল বেশ কম। সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ ইউরোর মধ্যে।
ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, বিবিসি৫ এর ব্রেকফার্স্ট শোতে পুরুষ উপস্থাপকদের বিষয়ে খবর সম্প্রচারের পর তিনি কম বেতন নিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই তালিকায় আমিও আছি।
বিবিসির মিডিয়া এডিটর আমল রাজন জানান, বিনোদন শিল্পে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকলেও সংবাদে তার বিপরীতই ঘটছে। বছর খানেক আগেও যারা উদার চুক্তিতে ছিলেন তাদের অনেকেই এখন বেতন কম নিতে সম্মত হয়েছেন।
বিবিসি মহাপরিচালক টনি হল বলছেন, বিবিসির যাবতীয় বেতন বৈষম্য আগামী ২০২০ সালের মধ্যে নিরসন হবে। এর মাধ্যমে বেতন, সমতা, লিঙ্গ আর প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে কতোটা অর্জন করা যায় তার উদাহরণ হয়ে উঠবে বিবিসি।