রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সোচিতে সিরিয়ার শান্তি প্রচেষ্টায় আয়োজিত সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা যু্দ্ধবিধ্বস্ত দেশটির সংবিধান প্রণয়নে একটি কমিশন গঠনে একমত হয়েছেন। তবে সম্মেলন বর্জনকারী বিরোধীদের বড় অংশই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সিরিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টাফান ডি মিস্টুরা বলেন, সোচিতে অনুষ্ঠিত দুই দিনের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছেন। ১৫০ সদস্যের এই কমিটিতে সরকার ও বিরোধী কর্মকর্তাদের অন্তর্ভূক্ত করতেও তারা রাজি। ডি মিস্টুরা বলেন, জাতিসংঘের নেতৃত্বে জেনেভায় কমিটির ব্যাপারে চূড়ান্ত চুক্তি হবে। কিন্তু সম্মেলনের চূড়ান্ত বিবৃতিতেও প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের ভাগ্যে কী ঘটবে তা বলা হয়নি। এর আগে এই বিষয়টি নিয়েই আলোচনায় সবচেয়ে বেশি কথা হয়েছে।
সিরিয়ার প্রধান বিরোধীগোষ্ঠী সিরিয়ান সমঝোতা কমিশন (এসএনসি) অভিযোগ করেছে, আসাদ ও রাশিয়া সামরিক শক্তি ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে আর সত্যিকার সমঝোতা করার আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এসএনসি’র মুখপাত্র মায়া আলরাহিবি বলেন, ‘আমরা এই পর্যায়ে কোনও ধরনের সাংবিধানিক কমিশন গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি।’
মায়া আলরাহিবি আল জাজিরাকে বলেন, তার পরিবর্তে গোষ্ঠীটি চায় সরকার ও বিরোধীরা মিলে প্রথমে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবে। ওই সরকারের মেয়াদে সিরিয়ার সব জনগণের প্রতিনিধি নিয়ে একটি সাংবিধানিক কমিটি গঠন করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, ওই সাংবিধানিক কমিটি তখন একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন করবে। তারপর অবাধ ও স্বচ্ছ ভোটাভুটির মাধ্যমে তা অনুমোদন দেওয়া হবে।
তুরস্কভিত্তিক বিরোধী গোষ্ঠী সিরিয়ান কোয়ালিশনের আইনজীবী হিশাম মারওয়াহ বলেন, নতুন সংবিধান লেখা ও ভোটাভুটির জন্য সিরিয়ায় একটি ‘নিরপেক্ষ ও নিরাপদ পরিবেশ’ দরকার। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখন সেই পরিবেশ নেই। সিরিয়ার রাস্তায় এই মুহূর্তেও ট্যাংক ঘুরে বেড়াচ্ছে।’ তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় একবারে আমাদের অবশ্যই মাত্র একটি পদক্ষেপ নিতে হবে। জেনেভা প্রজ্ঞাপন ও জাতিসংঘ প্রস্তাবে তাই বলা আছে।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধীপক্ষের অংশগ্রহণ ছাড়া সোচি চুক্তি সিরিয়ার যুদ্ধ বন্ধে কাজে আসবে না।