ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি অক্সফোর্ড অধ্যাপক রামাদান

তারিক রামাদান

দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফরাসি আদালত অক্সফোর্ড অধ্যাপক তারিক রামাদানের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশি হেফাজতে দুইদিন জিজ্ঞাসবাদের পর তাকে বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। তদন্তাতকারী ম্যাজিস্ট্রেট ধর্ষণের অভিযোগ আমলে নিয়ে অধ্যাপক রামাদানের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়ে কারাগারে পাঠায়। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সুইডেনে বেড়ে উঠলেও তারিক রামাদান ফ্রান্সের নাগরিক। মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা মিরসীয় ইমাম হাসান আল বান্নার নাতি তিনি। মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম বিভিন্ন দেশে তিনি বেশ পরিচিত। উদারবাদী ইসলামের প্রচারক হিসেবে পশ্চিমা সমাজেও তার পরিচিতি উল্লেখযোগ্য।  তবে সমালোচকরা তার ধারণাকে ফরাসি ধর্মনিরপক্ষেতার সাপেক্ষে সঙ্গতিহীন বলে মনে করে। 

গত বছরের অক্টোবরে  রামাদানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন হিন্দা আয়ারি ও নাম প্রকাশ না করা আরেক নারী। অভিযোগের ভিত্তিতে রামাদানকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদেন্তর অংশ হিসেবে  দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ তারিক রামাদানকে তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে রামাদানের  বিচার শুরুর আদেশ দেয়। একইসঙ্গে তাকে অনিদিষ্ট সময় পর্যন্ত কারাগারে পাঠানোরও আদেশ দেওয়া হয়।  
অভিযোগকারী দুই নারীর দাবি, ২০০৯ ও ২০১২ সালে তারা রামাদানের ধর্ষণের শিকার হন। ৪১ বছর বয়সী অভিযোগকারী হেন্দা আইয়ারি নারীবাদী আন্দোলনের কর্মী।  আগে রক্ষণশীল ইসলাম চর্চা করতেন। এখন তিনি লেস লিবারেট্রাইসিস নামের একটি নারী সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন। ২০১৭ সালের অক্টোবরে রামাদানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ আনেন হেন্দা। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১২ সালে একটি সম্মেলনের পর প্যারিসের একটি হোটেল কক্ষে তিনি রামাদানের হামলার শিকার হন। হেন্দা জানান, হার্ভে ওয়েইনস্টেইনের যৌন হামলা ও হয়রানির ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর তিনি রামাদানের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। আনু্ষ্ঠানিকভাবে ২০ অক্টোবর তিনি অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রথম অভিযোগের কয়েকদিনের মাথায় এক পঙ্গু ও ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত নারী রামাদানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও সহিংস হামলার অভিযোগ আনেন। এই নারীর অভিযোগ, ২০০৯ সালে লিও শহরে একটি হোটেল কক্ষে রামাদানের হাতে তিনি যৌন হয়রানির শিকার হন। এদিকে বৃহস্পতিবার প্যারিসে ক্রিস্টেলে ছদ্মনামের অভিযোগকারী নারী তিন ঘণ্টার জবানবন্দি দেন। তবে রামাদান ওই নারীর জবানবন্দিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

পুলিশের দাবি, রামাদানের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজনের জবানবন্দি গ্রহণ করেছে তারা। দাবি অনুযায়ী, দুই নারীর সঙ্গে রামাদানের ই-মেইল ও সামাজিক মাধ্যমে তথ্যবিনিময়ও পরীক্ষা করেছে। তবে ৫৫ বছর বয়সী রামাদান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগকারী হিন্দা আয়ারির বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করেছেন তিনি। রামাদানের সহকর্মী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ইউজেন রোগান রামাদের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগকে ।অপপ্রচার আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘রামাদান একজন বিখ্যাত মুসলিম হওয়ায় তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। ইউরোপীয়ানদের একটি গোষ্ঠী সংঘবদ্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে।’