সিরিয়া ইস্যুতে আলোচনায় বসছে রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরান

সিরিয়া ইস্যুতে আলোচনায় বসছে রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরান। রুশ উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী মিখাইল বোগদানোভ বলেছেন, মার্চে কাজাখস্তানের আস্তানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা বৈঠকে বসতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। রুশ বার্তা সংস্থা তাসের বরাত দিয়ে একথা জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

02_summit_0

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ নতুন মোড় নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসবে। বোগদানোভ আরও বলেন, সিরিয়ায় ইসরায়েলি বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আরও প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে।

শনিবার একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনী। এরপর সিরিয়ায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর এটাই ছিল দেশটির অভ্যন্তরে ইসরায়েলের প্রথম প্রকাশ্য অভিযান।

ইসরায়েলের দাবি, তারা সীমান্ত অতিক্রম করে আটটি সিরীয় ও চারটি ইরানি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। দামেস্ক জানিয়েছে, ইসরায়েল হামলায় নিহতদের মধ্যে সিরীয় সেনাসদস্যও রয়েছে।

ইসরায়েল দাবি করে, তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোনের উপস্থিতির কারণে সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইরানি ঘাঁটি লক্ষ্য করে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ইরান দাবি করে ইরানি ড্রোনের উপস্থিতির অভিযোগটি মিথ্যা। চলমান এই উত্তেজনায় যোগ দিয়েছে রাশিয়াও। ফলে ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও ইসরায়েলি হামলায় সিরিয়ায় চলমান উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আধিপত্যের রাজনীতিতে ইসরায়েল আর ইরানের অবস্থান পরস্পরের বিপরীতে। সৌদি-ইসরায়েল মৈত্রী মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির অনুসারী। বিপরীতে ইরানের অবস্থান মার্কিন আধিপত্যের বিপরীতে। সিরিয়ায় মার্কিন আধিপত্যের বিরোধী হওয়ার কারণেই ইরান সিরীয় যুদ্ধে আসাদ সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইসরায়েল সবসময়ই তাদের ওপর ইরানি হামলার আশঙ্কার কথা প্রচার করে আসছে। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত যেকোনও সময় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দেন।