সিরিয়ায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে ফুঁসছে তেল আবিব। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সর্বত্র ইরানকে মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট। সিরিয়া থেকে ইরানের অপসারণই ইসরায়েলের নিরাপত্তার রক্ষাকবচ বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।
জিউশ হোম পার্টি’র এই শীর্ষ নেতা বলেন, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গা থেকে আল কুদস বাহিনী ও ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের নাছোড়বান্দার মতো প্রচারণা চালানো দরকার।
ইসরায়েলের শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের (ইরান) সুরক্ষিত হতে দেবো না। প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, সিরিয়ায় তাদের ব্রিগেড এমনকি ব্যাটালিয়নও নেই। সেখানে তাদের কোনও বিমানবন্দর বা সমুদ্রবন্দর নেই।
নাফতালি বেনেট বলেন, আমরা জানি সিরিয়ায় কিভাবে ইরানকে নিবৃত্ত করতে হয়। আমরা আমাদের ক্ষমতার খুব সামান্যই ব্যবহার করেছি। এটা আমাদের সক্ষমতার একটা চমৎকার প্রদর্শনী।
এদিকে সিরিয়া ও লেবানন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। সীমান্তের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
শনিবার একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনী। এরপর সিরিয়ায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর এটাই ছিল দেশটির অভ্যন্তরে ইসরায়েলের প্রথম প্রকাশ্য অভিযান।
ইসরায়েলের দাবি, তারা সীমান্ত অতিক্রম করে আটটি সিরীয় ও চারটি ইরানি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। দামেস্ক জানিয়েছে, ইসরায়েল হামলায় নিহতদের মধ্যে সিরীয় সেনাসদস্যও রয়েছে।
১৯৮২ সালের লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর এই প্রথম ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলো। এরপরই বিমান হামলা জোরদার করে দেশটি। এরমধ্যেই সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলো ইসরায়েল।