আঞ্চলিক ও গোষ্ঠী পর্যায়ে সেনাবাহিনী গঠনের মধ্য দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতা উসকে দিতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন ইয়েমেনি পরিবহনমন্ত্রী সালেহ আল- গাবওয়ানি। বালহাফে স্থানীয় ও সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এমন অভিযোগ করেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরটি জানিয়েছে।
গৃহযুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষকবলিত ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সাল থেকে অব্যাহত রয়েছে মার্কিন সমর্থিত সৌদি জোটের হামলা। এ জোটের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিছু ইয়েমেনি সেনা ইউনিটকে প্রশিক্ষণ দেয় এবং অর্থায়ন করে। এসব সেনা ইউনিট কেবল আমিরাতিদের কাছেই জবাবদিহি করে। ইয়েমেনে নবগঠিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকেও সমর্থন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ কাউন্সিলের সমর্থকরা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে গত মাসে এডেনের রাস্তায় সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিল। হুথিবিরোধী লড়াইয়ে জোটের সদস্য হিসেবে আমিরাতকে সঙ্গে পেলেও এডেনভিত্তিক সরকারের সঙ্গে সেখানে অবস্থিত আমিরাতি বাহিনীর বিরোধ তৈরি হয়েছে।
রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) একটি নতুন বন্দর উদ্বোধন করতে বালহাফে যান ইয়েমেনি পরিবহনমন্ত্রী সালেহ আল-গাবওয়ানি। এ এলাকায় ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র এবং টার্মিনাল অবস্থিত। শহরটি এখন আমিরাতি বাহিনীর দখলে রয়েছে। রবিবার সালেহ আল-গাবওয়ানি অভিযোগ করেন, বালহাফে যাওয়ার পথে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত সেনারা তার বহরকে আটকে দিয়েছিল। গাবওয়ানির অভিযোগ, আমিরাত সমর্থিত শাবওয়া এলিট ফোর্স বলেছে, তার পথ আটকে দেওয়ার জন্য আমিরাতিদের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েছে তারা।
স্থানীয় ও সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে গাবওয়ানি বলেন, ‘আঞ্চলিক ও জাতিগত গোষ্ঠী পর্যায়ে সেনাবাহিনী গঠন করেছে আমিরাতিরা। একটি রাষ্ট্র হিসেবে আমরা এ পরিস্থিতি চলতে দিতে পারি না।’
এদিকে গৃহযুদ্ধকবলিত ইয়েমেনে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কলেরার প্রাদুর্ভাব আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আসন্ন মাসগুলোতে বৃষ্টির কারণে রোগটি আরও বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা জানানো হয়েছে। ২০১৬ সালে ইয়েমেনে কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। প্রাণ হারায় ২২০০ মানুষ। তবে সম্প্রতি রোগটির বিস্তার খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও আসন্ন মাসগুলোতে এর তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি দুর্যোগ প্রস্তুতি ও মোকাবিলা সংক্রান্ত উপ পরিচালক পিটার সালামা বলেন, ‘সত্যিকারের সমস্যা হলো আমরা বর্ষা ঋতুর আরেকটি অধ্যায়ে প্রবেশ করছি। সাধারণত বর্ষাকালে কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। সেকারণে আমাদের আশঙ্কা এপ্রিলের দিকে একবার এবং আগস্টে একবার কলেরার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই সময় শিয়া হুথি বিদ্রোহী ও তাদের মিত্ররা দেশটির প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহকে হটিয়ে রাজধানী সানাসহ বেশ কিছু এলাকার দখল নেয়। এ সময় প্রেসিডেন্ট সালেহকে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে হুথি বিদ্রোহীরা। এক বছর পর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট হুথি বিদ্রোহীদের উৎখাতে ইয়েমেনে আগ্রাসন শুরু করে।