সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের বাইরে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে ইরান। ইসরায়েলি স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়া এ সংক্রান্ত ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ। বুধবার ফক্স নিউজে প্রকাশিত এসব ছবিতে দেখা যায়, দামেস্ক থেকে মাত্র আট মাইল উত্তরপশ্চিমে এ ঘাঁটির অবস্থান। সেখানকার দুইটি গুদামে ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরানের রেভ্যুল্যুশনারি গার্ডের বিশেষ শাখা কুদস বাহিনী সিরিয়ায় এ ইরানি ঘাঁটিটি পরিচালনা করছে।
গত সপ্তাহে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ায় বিমান ঘাঁটিসহ কয়েক ডজন সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করছে ইরান। এর মধ্যে টি৪ বিমানঘাঁটিও রয়েছে। ইতোপূর্বে কয়েক দফায় এখানে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।
ইরানি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই দাবি করেন, এ অঞ্চলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলায় একটি অক্ষ তৈরিতে কাজ করছে তেহরান।
সিরিয়ায় শিয়াপন্থী স্থানীয় বাহিনীগুলোর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছে তেহরান।
বুধবার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিরিয়ায় ইরানের সামরিক ঘাঁটি নিয়ে কথা বলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদোর লিবারম্যান। তিনি বলেন, এটা নতুন কিছু নয়। সংবাদমাধ্যমগুলোকেও সব তথ্য সরবরাহের কোনও প্রয়োজন নেই। আমরা বিষয়গুলো শুনছি এবং নজর রাখছি। সম্ভাব্য সবকিছু অর্জনে আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করবো।
ইতোপূর্বে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছিলেন, সিরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি চায় ইরান। কিন্তু ইসরায়েল হতে দেবে না।
পশ্চিমা কূটনীতিকরা মনে করেন, সিরিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির জন্য তেহরানের এই অভিলাষের বিষয়টিকে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।
এদিকে সিরিয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইরানের মিত্র আসাদ বাহিনীর বিমান হামলায় রাসায়নিক ব্যবহার নিয়ে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রোহিবিশন অব কেমিক্যাল উইপন্স (ওপিসিডব্লিউ)।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় আসাদ বাহিনীর রাসায়নিক হামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। পূর্ব ঘৌটা এলাকায় ক্লোরিন হামলার আলামত সংগ্রহ করে সেগুলোর পরীক্ষা চালাবে ওপিসিডব্লিউ-এর বিশেষজ্ঞরা।