ভারতীয় সামরিক তৎপরতায় আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পরীক্ষা চালানো এক ড্রোন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ইসলামাবাদ। বুধবার একই সংবাদমাধ্যম ভারতের সুপারসনিক ইন্টারসেপ্টর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় পাকিস্তানের উদ্বেগের খবর জানিয়েছিল।
সম্প্রতি চির বৈরি ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা বেড়েছে। পাল্টাপাল্টি গুলির ঘটনায় দুই পক্ষের প্রাণহানিও বেড়ে চলেছে।পারস্পরিক গোলাগুলির সমান্তরালে চলছে দোষারোপের খেলা। দিল্লি-ইসলামাবাদ এক বছরের মধ্যে ৪০০ বারেরও বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে পরস্পরের বিরুদ্ধে। উসকানির অভিযোগও করছে উভয় পক্ষই।
সীমান্ত টহলে ব্যবহৃত ভারতীয় প্রযুক্তি নিয়ে ডেইলি এক্সপ্রেস পাকিস্তানের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ ফয়সাল। তিনি বলেছেন, ‘ভারতের ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার উদ্বেগজনক। এতে করে এই অঞ্চলে তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।’
সম্প্রতি ‘রুস্তম টু’ নামে একটি ড্রোন পরীক্ষা করেছে ভারত। মার্কিন প্রিডেটর ড্রোনের মতোই এর সক্ষমতা বলে ভাবা হচ্ছে। ট্রাম্পের সামরিক শক্তিমত্তায় নতুন যোগ হয়েছে এমকিউ-ওয়ান প্রিডটর নামের ওই ড্রোন। অন্যান্য শক্তিশালী বিস্ফোরক ছাড়াও এজিএম হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপেও সক্ষম ড্রোনটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ড্রোন ব্যবহার করবে কি না সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। কিংবা ড্রোনে অস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনাও পরিস্কার নয়। রুস্তম টু একটানা ২৪ ঘণ্টা উড়তে পারে। ফয়সাল বলেন, ড্রোন ব্যবহার করলেও ভারতকে অবশ্যই জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলতে হবে।
চলতি বছরে তিনবার সুপারসনিক ইন্টারসেপ্টর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে ভারত। আর তাতেই দুশ্চিন্তায় পড়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে সে দেশের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বুধবার জানায়, ভারতের এই কর্মকাণ্ডে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।