সৌদিতে প্রথম ধাপে ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র পাঠাতে চান ট্রাম্প

সৌদি আরবের কাছে প্রথম ধাপে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) কংগ্রেসকে সে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। পরিকল্পনাটি আটকে দিতে চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে আইন প্রণেতাদেরকে।

সালমান ও ট্রাম্প
তিন সপ্তাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মঙ্গলবার (২০ মার্চ) ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। হোয়াইট হাউসে সৌদি যুবরাজকে স্বাগত জানানোর পর ট্রাম্প জানান, সৌদি যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির কাছ থেকে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন। ওই পরিকল্পনার আওতায় সৌদি যুবরাজের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালেই প্রধম ধাপে ওই ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প বলেন, ‘ওবামা প্রশাসনের সময় সৌদি-মার্কিন সম্পর্ক ভালো ছিল না। কিন্তু এখন সেটা দারুণ।’

বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথম ধাপে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কংগ্রেসকেও জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অস্ত্র সরবরাহের এ প্যাকেজে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত প্রায় ৬,৭০০টি ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। অন্য উপকরণের মধ্যে আছে-আমেরিকান ট্যাংক ও হেলিকপ্টারের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে সহায়ক উপকরণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ। 

মঙ্গলবার (২০ মার্চ) সৌদি যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকের সময় কয়েকটি ছবি সম্বলিত একটি বোর্ড তুলে ধরেন ট্রাম্প; যেখানে লেখা ছিল ‘সৌদি আরবে ১২.৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি চূড়ান্ত।’ ট্যাংক ও হেলিকপ্টারসহ অনেক সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জামের ছবি ছিল সেখানে। এর মধ্যে ৫২৫ মিলিয়ন ডলারের এক অংশ নিয়ে যুবরাজকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা তোমার কাছে কিছুই না।’

উল্লেখ্য, ইয়েমেনে সৌদি জোটের ধারাবাহিক বিমান হামলায় বেসামরিক লোকজনের প্রাণহানির ঘটনায় রিয়াদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি ওই নির্দেশ দেন। ওই বছরের অক্টোবরে ইয়েমেনের একটি জানাজায় হামলা চালিয়ে ১৪০ জনেরও বেশি বেসামরিক ইয়েমেনিকে হত্যা করে সৌদি জোট। মূলত ওই ঘটনার প্রেক্ষিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওবামা প্রশাসন। ওই সময়ে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র নেড প্রাইস সৌদি আরবকে হুঁশিয়ার করে বলেন, মার্কিন নিরাপত্তা সহযোগিতা দেওয়ার মানে ‘ফাঁকা চেক দেওয়া নয়’। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সম্পর্কোন্নয়ন ঘটে। এমনকি ট্রাম্পকে ‘মুসলমানদের সত্যিকারের বন্ধু’ বলে মন্তব্য করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

পরে ২০১৭ সালের জুনে সৌদি সফরে দেশটির সঙ্গে ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র সরবরাহ চুক্তি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিপুল অর্থের অস্ত্র কেনায় সৌদি আরবের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি বলেন, সৌদি অস্ত্র ক্রয়ের কারণে শত শত কোটি ডলার ঘরে ফেরাতে সমর্থ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অস্ত্র ব্যবসায় ৪০ হাজার মার্কিন নাগরিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল অঙ্কের অস্ত্রচুক্তির কারণে যুদ্ধবিরোধী সংগঠনগুলোর তোপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের বিক্রি করা অস্ত্রেই ইয়েমেন সামরিক অভিযান চালাচ্ছে সৌদি জোট। প্রাণ হারাচ্ছে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ।