পুলিশি হত্যাকাণ্ডের শিকার মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গের শেষকৃত্য পরিচালনায় মুসলিম আলেম

সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেখানে বর্ণবাদের বিষ আর ইসলামফোবিয়ার ভাইরাস; সেই যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো এক কৃষ্ণাঙ্গের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে মুসলিম আলেমের পরিচালনায়। বর্ণ-ধর্ম-জাতির ঊর্ধ্বে সাদা-কালো সব রঙের মানুষ শামিল হয়েছেন সেই শেষকৃত্যানুষ্ঠানে। পুলিশি কর্মকাণ্ডের ভূমিকায় তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা। সোচ্চার হয়েছেন পুলিশের নৃশংস ভূমিকার বিরুদ্ধে। 

nonameযুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের নির্বিচারি কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ধারাবাহিক সংস্কৃতি বিরাজমান। একইভাবে নির্বিচারি পুলিশি দায়মুক্তিও সেখানে সাধারণ ঘটনা।তবে ২০১৪ সালে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে পুলিশ কর্তৃক এক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনায় উত্তাল বিক্ষোভ হয়। অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াউকি নামের শহরে ডন্ট্রে হ্যামিলটন নামে এক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জোরালো বিক্ষোভ সত্ত্বেও জড়িত পুলিশকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়। পরে একই ধরনের অন্যান্য ঘটনায় বিক্ষোভ হলেও পরিস্থিতির বদল ঘটেনি। সর্বশেষ সাক্রামেন্টোতে স্টিফেন ক্লার্ককে হত্যার ঘটনায় আবারও ফুঁসে উঠেছিল জনগণ। দায়ী দুই সদস্যকে ছুটিতে পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সাক্রামেন্টোর চার্চে ২২ বছর বয়সী স্টিফেন ক্লার্কের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। অংশ নেয় সব ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণির মানুষ। আর এটি পরিচালনা করেন মুসলিম আলেম জায়েদ শাকির। তিনি বলেন, ‘আমরা কাছের মানুষের মৃত্যু দেখতে দেখতে হাঁপিয়ে উঠেছি। এটা শুধু আমাদের সমস্যা নয়। এটা কাঠামোগত সমস্যা, নিশ্চিতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সমস্যা।’ আবেগী হয়ে পড়েন তার ভাই স্টেভেন। তার কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করতে থাকেন তিনি। সবাই তখন বলছিলেন স্টিফেন বেঁচে থাকবে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনিদের হৃদয়ে।

মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে সাক্রামেন্টো পুলিশ জানায়, একটি আবাসিক এলাকায় কেউ একজন গাড়ির কাচ ভাঙার চেষ্টা করছে—ফোনকলে এমন খবরের পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। ফোনকলে পাওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, তারা ক্লার্ককেই ঘটনায় দায়ী বলে মনে করে অনুসরণ করতে থাকে। বডি ক্যামেরাযুক্ত পুলিশকে অন্ধকারের মধ্যে  চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আমাকে তোমার হাত দেখাও। বন্দুক! বন্দুক।” তারপরই গুলির শব্দ শোনা যায়। ২০টি গুলিতে বিদ্ধ হয় ওই কৃষ্ণাঙ্গের শরীর। পুলিশের দাবি, ক্লার্ক তার হাত প্রসারিত করে সামনে এগিয়ে আসছিল। তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনকেই পুলিশ বন্দুক ভেবে ভুল করেছে। হত্যাকাণ্ডের পর দুই সপ্তাহ ধরে চলেছে বিক্ষোভ। আন্দোলনকারীরা রাস্তা আটকে দিয়েছে, প্রবেশ করতে দেয়নি এনবিএ গেমসে। ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ সংগঠনের ব্যানারে মিছিল করে তারা।

পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যানা ম্যারি স্কুলবার্ট। তার অফিসের সামনেই বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। তবে স্টিফেনের আত্মীয় শেরনিতা ক্রসবি বলেন, আইনের প্রতি তাদের কোনও ক্ষোভ নেই। বিক্ষোভও করতে চান না তারা। বিশ্বকে কেবল জানাতে চান, তারা যেন কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনের মূল্য বোঝে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্সকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তবে সাক্রামেন্টোর মেয়র ড্যারেল স্টেইনবার্গ বলেন, ন্যায় বিচারের স্বার্থে তিনি স্টিভেন ক্লার্কের ভাই স্টেভেনের সঙ্গে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।