দামেস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কালামৌন এলাকায় অবস্থানকারী বিদ্রোহীদের চূড়ান্তভাবে সতর্ক করে দিয়েছে আসাদ বাহিনী ও আসাদের পৃষ্ঠপোষক রাশিয়া। তারা বলছে, বিদ্রোহীদের হয় সিরিয়ার আইন মেনে নিতে হবে, অন্যথায় ওই স্থান ছেড়ে চলে যেতে হবে। মঙ্গলবার বিদ্রোহীদের একটি সংগঠন রাশিয়া ও সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগেও সমঝোতা অনুযায়ী পূর্ব ঘৌটা থেকে বিদ্রোহীদের অন্য স্থানে চলে যেতে দিয়েছিল রাশিয়া সমর্থিত সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। যদিও অন্য এলাকায় সমঝোতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা বিদ্রোহী সংগঠনও রয়েছে, তবে কালামৌনের বিদ্রোহীরা সমঝোতার কথা বিবেচনা করছে।
কালামৌন এলাকাটি দামেস্ক থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে। সেটি পূর্ব ঘৌটা থেকে আলাদা। বিদ্রোহীদের দখলে থাকা পূর্ব কালামৌনে কয়েকটি শহর ও বিশাল পার্বত্য এলাকা রয়েছে। পূর্ব কালামৌনে গিয়ে আলাপ করার সময় রাশিয়ার একজন কর্নেল ও সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর একজন কর্মকর্তা সেখানকার বাসিন্দাদের বলেছেন, বিদ্রোহীদের হয় ওই এলাকা ত্যাগ করতে হবে অথবা সিরিয়ার আইন মেনে নিতে হবে। ‘ফোর্সেস অফ মার্টিয়ার আহমাদ আব্দু’ নামের বিদ্রোহীদের সংগঠনটির মুখপাত্র সাঈদ সাইফ রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। রাশিয়া ও সিরিয়ার তরফ থেকে দেওয়া ওই প্রস্তাবের বিষয়ে পৃথক সাক্ষাৎকারে আল-হাদাথ টেলিভিশনকে সাঈদ সাইফ বলেছেন, ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মির প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে তারা—হয় সমঝোতা না হয় আত্মসমর্পণ। হয় পূর্ব কালামৌন ছেড়ে চলে যেতে হবে আর নয়তো সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।’
সাইফের ভাষ্য, বিদ্রোহীরা শহর ছেড়ে পাহাড়ে চলে যাওয়ার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে আসাদ বাহিনীর কাছে। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ নাগরিকরা শহরেই থাকতে পারবে। তবে রুশ সমর্থিত রাশিয়ার সরকারি বাহিনী এখনও ওই প্রস্তাবের বিষয়ে কিছু জানায়নি। বিদ্রোহীরা চায়, সাধারণ মানুষকে যেন কালামৌন ছেড়ে যেতে বাধ্য করা না হয়, যেমনটা অন্যান্য এলাকার ক্ষেত্রে করা হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের অনেকে রাশিয়া ও সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর কর্মকর্তাদের জানিয়েছে, ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চলে গেলে আল নুসরা ও ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরা সেখানকার মানুষদের জীবন বিপদাপন্ন করে তুলতে পারে।
পূর্ব ঘৌটায় একইভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। সমঝোতায় রাজি হওয়া কাতার সমর্থিত ফাইলাক আল-রহমানের বিদ্রোহীরা পূর্ব ঘৌটা খালি করে দিয়ে ইদলিবে চলে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ইদলিব এলাকাটি তুরস্কের সীমান্তবর্তী।
পূর্ব কালামৌনের মতোই অবস্থা দৌমার। সেখানেও বিদ্রোহীদের জন্য একই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা জানিয়েছিল সিরিয়ার সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। দৌমা শহরটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জৈশ আল ইসলাম। বিদ্রোহীদের ওই সংগঠনটি সৌদি আরবের পৃষ্ঠপোষকতা পায়। তারা আসাদ বাহিনীর সঙ্গে কোনও সমঝোতা হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। রয়টার্স লিখেছে, জৈশ আল ইসলাম দৌমা শহর ছাড়তে চায় না বটে কিন্তু শহরবাসী সমঝোতা চায়। সোমবার রয়টার্সকে একটি সেনা সূত্র জানিয়েছে, জৈশ আল ইসলাম যদি অস্ত্র সমর্পণে রাজি না হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হবে। দৌমা ছাড়ার বিষয়ে সরকার নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। তারপরও কাজ না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নির্ধারিত সময়টি কত তারিখ পর্যন্ত, তা জানায়নি ওই সূত্রটি। তার ভাষ্য, ‘সিরিয়ার সরকার ওই এলাকা থেকে বিদ্রোহীদের নিশ্চিহ্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
গত মাসে সিরিয়া গৃহযুদ্ধের ৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ হারানোর পাশাপাশি প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষকে বাস্তচ্যুত হতে হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৬ লাখ মানুষ বিদেশে শরণার্থী হতে বাধ্য হয়েছে। আট বছর যুদ্ধের পর এখন আসাদের হাতে সিরিয়ার সবচেয়ে বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে আরওর আরও স্থান নিজের দখলে নিতে তাকে অন্যান্য দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে টক্কর দিতে হবে। সেক্ষেত্রে সবার আগে নাম আসবে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের। সূত্র: রয়টার্স।