গাজা উপত্যকায় আরও এক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গাজা পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কিদরা এক বিবৃতিতে বলেন, নিহত ব্যক্তির মরদেহ গাজার আল শিফা মেডিক্যাল কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদে ৩০ মার্চকে ‘ভূমি দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন ফিলিস্তিনিরা। ওইদিন নিজেদের মাতৃভূমির দখল ঠেকাতে বিক্ষোভে নামলে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ৬ ফিলিস্তিনি নিহত হন। গত ৩০ মার্চ দিবসটি পালনের উদ্দেশ্যে ফিলিস্তিনিদের জমায়েতে হামলে পড়ে ইসরায়েলি বাহিনী। ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামের বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে তারা ১৭ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। গুলিবিদ্ধ হন সাড়ে সাত শতাধিক ফিলিস্তিনি। আহত হয় দেড় সহস্রাধিক মানুষ। এই হত্যাযজ্ঞের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে গত শনিবার জাতীয় শোক পালন করে ফিলিস্তিনিরা। এদিন আমৃত্যু ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জারি রাখার অঙ্গীকার করে স্বাধীনতাকামী এই জাতি।
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক ফেডেরিকা মোঘেরিনি এই হত্যাযজ্ঞের স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একটি দখলদার সন্ত্রাসী। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তিনি একজন দখলদার হিসেবেই অবস্থান করছেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরায়েল যা করছে তা ইতিহাসের অংশ হবে এবং আমরা তা কখনও ভুলবো না।’
এই হত্যাযজ্ঞকে ‘আইন বহির্ভূত এবং পূর্বপরিকল্পিত’ বলে উল্লেখ করেছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংগঠনটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি সেনাদের জন্য গুরুতর কোনও হুমকি তৈরি করেছিল বলে প্রমাণ দিতে পারেনি ইসরায়েল সরকার। কোনও বিক্ষোভকারী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে প্রমাণ পায়নি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।