যুক্তরাজ্যে পাকিস্তানি অভিবাসন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ, বাংলাদেশিরাও বিপাকে

শামসু ইকবাল (৬১)

শামসু ইকবাল (৬১), পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিক। যুক্তরাজ্য হোম অফিসের একজন কর্মকর্তা তিনি। পাসপোর্ট জালিয়াতি করে কয়েশ’ অবৈধ অভিবাসীকে ব্রিটেনে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি ও তার তিন সহযোগী ৬০ লাখ পাউন্ড দুর্নীতি করেছেন। বুধবার (৪ এপ্রিল) এ অভিযোগে  আদালতে তোলা হয়েছে তিনিসহ চার অভিযুক্তকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী সপ্তাহে সাজার ব্যাপারে শুনানি হবে। তাদের সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেল হতে পারে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অবৈধ অভিবাসীদের অবৈধভাবে সহায়তার জন্য ১৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে।  

এ দুর্নীতির সঙ্গে এক বাংলাদেশির জড়িত থাকার ঘটনায় কমিউনিটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও আরও কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও যারা অবৈধভাবে ব্রিটেনে থাকার সুযোগে নিয়েছেন তারাও বিপদে পড়তে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

যুক্তরাজ্য হোম অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চক্রকে ধরতে অ্যান্টি করাপসন ইউনিটের তিন বছরের বেশি সময় লেগেছে। ঠিক কতজনকে যুক্তরাজ্যে থাকার বৈধতা দেওয়া হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন। এখানে বৈধতার ব্যাপারে ভৌতিকতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। কাউকে দেওয়া হয়ে লিভ টু রিমেইন, আবার কাউকে নো টাইম লিমিট দেওয়া হয়েছে।

অবৈধভাবে অভিবাসী হিসেবে যারা থাকার সুবিধা নিয়েছেন তাদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এদের মধ্যে কিছু সন্ত্রাসীও থাকতে পারে। যারা সমাজে মিশে গেছে তাদের হয়তো শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।’

জানা যায়, ঘটনার মূল হোতা পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত ইকবালের অপর তিন সহযোগী হচ্ছেন- পাকিস্তানি  বংশোদ্ভুত আইনজীবী শেখ মুহাম্মদ উসমান (৪৫),পাকিস্তানি  বংশোদ্ভুত মোহাম্মদ কাওছার আফতাব হোসেন (৪৯) ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী (৪৮)। ইব্রাহিম আলী ১২ বছর বয়স থেকে ব্রিটেনে বাস করছেন বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে লন্ডনে কর্মরত আইনজীবি ‘হ্যামলেটস সলিসিটারস;-এর কর্নধার বিপ্লব কুমার পোদ্দার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনাটি খুব উদ্বেগজনক।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে কোনও বাংলাদেশি জড়িত থাকলে তিনি তো বিপদে পড়েছেনই, বাংলাদেশি বা অন্য কেউ এ চক্রের দ্বারা ব্রিটেনে জালিয়াতির মাধ্যমে বৈধতার সুযোগ নিয়ে থাকলে তিনিও বিপদে পড়বেন।’

এ চক্রের মাধ্যমে ব্রিটেনে যারা অবৈধ প্রক্রিয়ায় বসবাসের বৈধতা পেয়েছিলেন, তাদের বৈধতাও বাতিল হতে পারে বলে জানা গেছে।