সমালোচনার মুখে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক হত্যার ঘটনা তদন্তের ঘোষণা ইসরায়েলের

পরিস্কার প্রেস লেখা চিহ্ন থাকার পরও ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ওপর গুলি বর্ষণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। সাংবাদিকদের বৈশ্বিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার অভিযোগ তুলেছে ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের ওপর গুলি ছুঁড়েছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলছে ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না তার। শনিবার দেশটির সেনাবাহিনীর তরফ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে শুক্রবারে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভে সাংবাদিক নিহতের ঘটনা তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে হামাস উসকানি দিচ্ছে অভিযোগ করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এই বিবৃতির খবর নিশ্চিত করেছে।

সাংবাদিক ইয়াসির মুর্তজার শেষকৃত্যে ছবি হাতে সহকর্মীরা

ইসরায়েলি হুমকি অগ্রাহ্য করে ভূমি দিবস উপলক্ষ্যে টানা ছয় সপ্তাহের কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বে শুক্রবার গাজা সীমান্তে জড়ো হয় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। ইসরায়লি সেনাবাহিনী তাদের ওপর গুলি ছুঁড়লে নিহত হয় নয় ফিলিস্তিনি। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইয়াসির মুর্তজা। এদিন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও ছয় সাংবাদিক।

সাংবাদিক হতাহত হওয়ার এই ঘটনায় ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা প্যারিসভিত্তিক বৈশ্বিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার। সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ক্রিস্টোফার ডেলোয়রি এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইয়াসির মুর্তজা প্রেস লেখা জ্যাকেট পরে ছিলেন: তিনি নিশ্চিতভাবেই উদ্দেশ্যমূলক গুলি চালানোর শিকার। ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর এই ইচ্ছাকৃত গুলি চালানোর নিন্দা জানাচ্ছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার।’

সমালোচনা অব্যাহত থাকায় শনিবার বিবৃতি দিয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয় না দাবি করে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে এই ঘটনা তদন্ত করে দেখবে তারা। প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে সীমান্ত বেড়ার কাছে আসার বিষয়ে আমরা সতর্কতা দিয়ে আসছি। সন্ত্রাসী গ্রুপ হামাসের নির্দেশ না মেনে গাজার অধিবাসীদের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ও অন্যান্য সহিংস কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছি। তা সত্ত্বেও গত শুক্রবার থেকে ইসরায়লি বাহিনী হামাসের উসকানিতে পড়ে সীমান্ত বেড়ার কাছে আসা হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে।’

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর জবাবে সেনাবাহিনী এই ধরণের পরিস্থিতির জন্য বানানো স্বচ্ছ আদেশ মোতাবেক কাজ করে থাকে। সেনাবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না। কোন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর গুলিতে সাংবাদিকেরা বিদ্ধ হয়েছেন তা জানা যায়নি। আর তা তদন্ত করে দেখা হবে।

ইসরায়লি সেনাবাহিনী শুধুমাত্র ‘উস্কানিদাতাদের’ ওপর গুলি ছুঁড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।