সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগারে হুথিদের ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগারে এবং আসির প্রদেশের একটি বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। বুধবার (১১ এপ্রিল) হুথি সংশ্লিষ্ট আল মাসিরাহ টিভিতে এ দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। তবে সৌদি আরামকোর দাবি, তারা ‘স্বাভাবিকভাবে ও নিরাপদে’ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

কাসেফ-ওয়ান ড্রোন
২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যু হয়েছে আরও ১০ হাজার মানুষের। গৃহহীন হয়েছেন কয়েক লাখ। ভয়াবহ বিমান হামলার তাণ্ডবে দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলার জবাবে গত বছরের ৫ নভেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে স্কাড-শ্রেণির ‘বোরকান-২’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। ৩০ নভেম্বর আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। দুইবারই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশে ধ্বংস করার দাবি করে সৌদি আরব। এ বছর ২৫ মার্চ আরও সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করে রিয়াদ। এর মধ্যেই বুধবার (১১ এপ্রিল) সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। 

সৌদি আরামকো কোম্পানি জাজানে একটি বড় তেল শোধনাগার পরিচালনা করে থাকে। বুধবার হুথি সংশ্লিষ্ট আল-মাসিরাহ চ্যানেলে বলা হয়, হুথিদের বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে জাজানে আরামকোর কাসেফ-ওয়ান বিমানে থেকে হামলা চালানো হয়েছে। মিডল ইস্ট আই জানায়, কাসেফ-ওয়ান হলো একটি ড্রোন, গত বছর হুথিরা এটি উন্মোচন করেছিল। মাসিরা চ্যানেল জানায়, একই মডেলের ড্রোন দিয়ে আসির প্রদেশের আভা বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে হুথিরা। তবে কোন সময়ে হামলাগুলো চালানো হয়েছে এবং কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা তা নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইয়েমেন যুদ্ধে ভূমিকার জন্য বরাবরই সৌদি আরবকে শীর্ষ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশ হিসেবে শনাক্ত করে আসছে। ইয়েমেনে সৌদি জোটের অভিযানের জবাব দিতে মাঝে মাঝে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হুথিরা। আর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তা প্রতিহত করার দাবি করা হয়। দেশটির অভিযোগ,এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের তৈরি। তবে বরাবরই সে অভিযোগ নাকচ করে আসছে ইরান।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্সের পক্ষ থেকে ২০১৭ সালে দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আবাবিল-টি নামের একটি ইরানি ড্রোনের আদলে কাসেফ-ওয়ান ড্রোন তৈরি করা হয়েছে। কাসেফ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করে না। তবে অতীতে ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ হিসেবে ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তবে এবার সৌদি ভূখণ্ডে এ ড্রোন হামলার মধ্য দিয়ে হুথিরা তাদের কৌশলকে বিস্তৃত করারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে মিডল ইস্ট আই।