বাশার আল আসাদ সরকার সিরিয়ার দৌমা শহর পুনর্দখলে নিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ার সরকার সাবেক বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ঘৌটা অঞ্চলটিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলো বলেও দাবি করা হয়েছে।রাশিয়ার এক সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরটি জানিয়েছে। তবে সিরিয়ার সরকারের কাছ থেকে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিরিয়ার সরকারি বাহিনী রাশিয়ার সহযোগিতায় বিদ্রোহীদের দখলে থাকা এলাকার প্রায় এক তৃতীয়াংশ আগেই পুনর্দখল করেছিল। পূর্ব ঘৌটা ছিল বিদ্রোহীদের শেষ শক্তিশালী ঘাঁটি। এলাকাটির দখল নেওয়ার জন্য সম্প্রতি রাশিয়া ও আসাদ বাহিনী লাগাতার বিমান হামলা শুরু করে। গত ৭ এপ্রিল সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর দৌমাতে রাসায়নিক হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। রাসায়নিক গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহত হয় ৮৫ জন। বুধবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক বিবৃতিতে জানায় দৌমার পাঁচ শতাধিক মানুষ রাসায়নিক হামলার লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে গেছেন। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুমুল নিন্দার ঝড় ওঠে। সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে রাশিয়াকে হুমকি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সমালোচনা করে রাশিয়া ও ইরান পাল্টা হুমকি দেয়।
পাল্টাপাল্টি এ হুমকি-ধামকির মধ্যেই বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) রাশিয়ার সেন্টার ফর সিরিয়ান রিকনসিলিয়েশন এর প্রধান মেজর জেনারেল ইয়ুরি ইয়েভতুশেনকো স্থানীয় সংবাদমাধ্যম স্পুটনিককে বলেন, সিরীয় সরকারি বাহিনী দৌমা থেকে সব বিদ্রোহীদের হটিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আজ সিরিয়ান আরব রিপাবলিকের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা ঘটেছে। দৌমা শহরের একটি ভবনের উপরে রাষ্ট্রীয় পতাকা উড়ানো হয়েছে। এটি শহরটির এবং পুরো পূর্ব ঘৌটায় সরকারি বাহিনীর পুনঃনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠারই চিহ্ন বহন করছে। রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ জানায়, দৌমার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য রুশ সামরিক পুলিশকে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইস্টার্ন ঘৌটায় জয়েশ আল ইসলাম নামে সর্বশেষ যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি অবস্থান করছিলো, রবিবার তাদের সঙ্গে রাশিয়ার একটি চুক্তি হওয়ার পর এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেয় সিরিয়া। দৌমায় ৭ এপ্রিল রাসায়নিক হামলার অভিযোগ ওঠার পরদিনই চুক্তিটি করা হয়। এর আওতায় বিদ্রোহীদের দৌমা ছেড়ে উত্তরাঞ্চলীয় সিরিয়ার একটি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় চলে যেতে বলা হয়। ওই চুক্তির আওতায় অস্ত্রবিরতি পালন করা হয় এবং দৌমা থেকে বিদ্রোহী ও সাধারণ নাগরিকরা সরে যায়। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এলাকা ফাঁকা করার পর দৌমায় কেবল রুশ সামরিক পুলিশ প্রবেশ করতে পারবে। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী সেখানে যেতে পারবে না। রুশ সামরিক পুলিশ দৌমা শহরে প্রবেশ করার পর পরই ক্রসিং পয়েন্টগুলো খুলে দেওয়া হবে। দৌমায় থাকা সরকারপন্থী বন্দিদের মুক্তির বিষয়টিও চুক্তিতে নিশ্চিত করা হয়।
এদিকে সোমবার (৯ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিসভা এবং সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সমালোচনা করে রাশিয়া ও ইরান পাল্টা হুমকি দেয়। বলা হয়, সিরিয়ায় হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হবে। বিনা জবাবে তারা পার পাবে না। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) ট্রাম্প সিরিয়ায় সামরিক হামলা চালানোর ইঙ্গিত দেন। আসাদের মিত্র রাশিয়াকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আসছে, প্রস্তুত হও রাশিয়া।’পাল্টাপাল্টি হুমকি ধমকি চলতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে এরইমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ।