ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিশু পাচারে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করছে মিসর

অনলাইনে শিশু পাচারের ঘটনায় কয়েকজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছেন মিসরের প্রসিকিউটররা। রাষ্ট্রীয় পরিচালনাধীন ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর চাইল্ডহুড অ্যান্ড মাদারহুডকে উদ্ধৃত করে মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদভিত্তিক ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট মনিটর খবরটি জানিয়েছে।এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট ব্যবহার করে শিশু পাচারের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনলো মিসর।

মিসরীয় শিশু
গত ফেব্রুয়ারিতে নিজেদের পরিচালিত শিশু হটলাইনের মাধ্যমে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর চাইল্ডহুড অ্যান্ড মাদারহুড কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, একটি ওয়েবসাইট রয়েছে যার মাধ্যমে মিসরে শিশুদের বিক্রি করা হয়। ওই ওয়েবসাইটে বিক্রির জন্য শিশুদের ছবি প্রদর্শন করা হয়। দেশের ভেতর কিংবা বাইরে থেকে পরিবারগুলো পছন্দমতো শিশু বাছাই করে তাকে কেনার অনুরোধ জানাতে পারে।

মিসরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে উদ্ধৃত করে মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর চাইল্ডহুড অ্যান্ড মাদারহুড এর পক্ষ থেকে প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় থেকে মামলা করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। এ নিয়ে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর চাইল্ডহুড অ্যান্ড মাদারহুড-এর মহাসচিব আজ্জা এল-আশমাউই একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি জানান, অনলাইনের মাধ্যমে শিশু পাচারে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে।

গত জানুয়ারিতে মিসরের পার্লামেন্ট শিশু অপহরণের ঘটনায় সাজা কঠোর করে একটি আইনগত সংশোধনী পাস করে। মিসরে শিশু অপহরণের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার কারণে ওই সংশোধনী আনা হয়। সংশোধিত আইনে অপহরণকারীদের ১০ থেকে ২০ বছরের সাজার বিধান জারির পাশাপাশি অপহৃত শিশুকে ধর্ষণ কিংবা যৌন নিপীড়নের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান জারি করা হয়েছে। পূর্ববর্তী আইনে শিশু অপহরণ মামলায় সর্বোচ্চ ২৫ বছরের (যাবজ্জীবন) সাজার বিধান ছিল।