পূর্ব ঘৌটায় এখনও আটকা ১ লাখ ২৮ হাজার সিরীয়: জাতিসংঘ

সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটায় এখনও ১ লাখ ২৮ হাজার সিরীয় আটকা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার সংস্থাটি মানবাধিকার সমন্বয়ক বিষয়ক দফতর জানায়, ‘পূর্ব ঘৌটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আসাদ সরকার। তবে এখনও আটকা পরে আছে লক্ষাধিক সিরীয়।’

thumbs_b_c_e941664f43c6fe575a76d5dc8391c051সংস্থাটির মুখপাত্রা জেনস লায়ের্কে বলেন, আমাদের ধারণা অনুযায়ী দৌমা শহরেই ৭০-৭৮ হাজার বেসামরিক আটকা আছেন। অন্যান্য স্থানে রয়েছেন আরও ৫০ হাজার। তার দাবি, বেসামরিকদের আটকে রেখেছে আসাদ সরকারই।

পূর্ব ঘৌটায় ২০১১ সালে প্রথম সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে এটাই ছিল বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি। গত এক মাসের লাগাতার হামলার পর সেখান থেকে পালানো শুরু করে বিদ্রোহীরা। ১৮ ফেব্রুয়ারি আক্রমণ শুরু করা আসাদ বাহিনী এলাকাটিতে বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ প্রচেষ্টাকে তিন অংশে বিভক্ত করে দেয়। তাদের হামলায় তখন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ নিহত হন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে কেবল শুক্রবার (৬ এপ্রিল) রাত থেকে শনিবার (৭ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত হামলায় পূর্ব ঘৌটার অন্তত ৭০ জনের নিহত হওয়ার খবর জানা যায়। আসাদ বাহিনীর বিষাক্ত সারিন রাসায়নিক গ্যাস হামলায় তারা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোয়াইট হেলমেট। সিরিয়া অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র তারিক জাসেরেভিক বলেন, ৮ এপ্রিল বিষাক্ত রাসায়নিক হামলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫০০ মানুষ। আমরা ঘৌটার অল্প কিছু জায়গায় যেতে পারলেও এখনও দৌমায় যেতে পারিনি। আমরা সেখানে যেতে চাই্ সেখানে স্বাস্থ্যসেবা দিতে চাই।

ইউনিসেফের মুখপাত্র ক্রিস্টোফি বুলিরাকও বলেছেন, তারাও সেখানে যেতে পারছেন না। সেখানকার শিশুদের সহায়তা প্রয়োজন।  

গত শনিবার (৭ এপ্রিল ) সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর দৌমাতে রাসায়নিক হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলার জন্য রাশিয়ার মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারকে দায়ী করে। আর রাশিয়া ও সিরিয়া সরকার এজন্য উল্টো বিদ্রোহীদেরই দায়ী করে। ওই হামলায় অন্তত ৮৫ জন নিহত হন।