আরব লীগের সম্মেলনে সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার তদন্ত দাবি

সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্রের ‘অন্যায়’ ব্যবহারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আরব নেতারা। রবিবার সৌদি আরবের দাহরান শহরে আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলন থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য ইরানের নিন্দাও জানান নেতারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

আরব লীগের সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ

আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ইয়েমেন ও সিরিয়ায় ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত আছে দেশ ‍দুটি। আরব লীগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানাই। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিও জানাই। বিবৃতিতে সিরিয়ায় চলমান বহুপাক্ষিক যুদ্ধের রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

শুক্রবার রাতে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সমর্থন জানিয়েছে আরব লীগের সৌদি আরব ও তার মিত্র আরব দেশগুলো। আরব লীগের সদস্য রাষ্ট্র ইরাক ও লেবানন এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সিরিয়া প্রথম থেকেই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের হামলাকে আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে।

সিরিয়ার প্রধান মিত্র রাশিয়া ও ইরান সিরিয়ায় পশ্চিমা হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দেশ দুটির সামরিক সহায়তা বিদ্রোহীদের দমনে অনেকটা সফল হয়েছে সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ। আর সিরিয়া ও ইয়েমেন থেকে ‘ইরানের সামরিক বাহিনীগুলো’কে প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে আসছে সৌদি আরব।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবেইর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সম্মেলন থেকে আরব দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইরানি হস্তক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়েছে। দেশটি আরব দেশগুলোর মধ্যে কখনও সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব তৈরি করছে, আবার কখনও লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনের মতো মিলিশিয়াদের লালন করছে। পাশাপাশি দেশটি আল কায়েদা সন্ত্রাসীদেরও আশ্রয় দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ইরান বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সৌদি আরবের চাপের মুখে আরব লীগ এই নিন্দা জানিয়য়েছে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমিকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলেছে, ‘সম্মেলনের চূড়ান্ত বিবৃতিতে সৌদি আরবের ধ্বংসাত্মক নীতির ছায়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।’