‘প্রশাসনিক আটক’ বাতিলের দাবিতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের আদালত বর্জন অব্যাহত

ইসরায়েলের ‘প্রশাসনিক আটক’ ব্যবস্থার প্রতিবাদে সামরিক আদালত বর্জন অব্যাহত রেখেছে ফিলিস্তিনি কারাবন্দিরা। কারা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই একটি বৈঠক বসার কথা জানানো হয়েছে। এরপর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দেওয়া স্বাস্থসেবাও বর্জন করারও ঘোষণা দিয়েছেন কারাবন্দিরা। মধ্যপ্রাচ্য পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ সংস্থা মিডলইস্ট মনিটর এ খবর জানিয়েছে।

2013_9-10-Families-of-Palestinian-prisoners-ASH_00-10

কারাবন্দিদের অধিকার আদায়ের সংগঠন আদামির জানায়, প্রশাসনিক আটক বন্ধ করতে সামরিক আদালত বর্জনের পাশাপাশি তারা ইসরায়েলি ওষুধ বর্জন ও হাসপাতাল সুবিধা নেওয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক কারাবন্দিদের প্রতিনিধি কমিটির এক সদস্য তাদের আইনজীবীকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। 

আদামির আরও জানায়, সম্প্রতি প্রশাসনিক আটকের বিষয়ে শিগগিরই কারাবন্দিদের প্রতিনিধি কমিটির সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থা, সেনাবাহিনী ও ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ-আইপিএস’র একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে বসবে। এই বৈঠকের আগের কারাবন্দিরা নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। কারাবন্দিদের প্রতিনিধি কমিটি বলেছে, উদ্দীপনা কমলেও প্রশাসনিক আটক বন্ধের দাবিতে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে এই বৈঠক ব্যর্থ হলে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েলি আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এখন ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৫শ ফিলিস্তিনিকে প্রশাসনিক বন্দি হিসেবে আটকে রাখা হয়েছে। বর্তমান নিয়মে ইসরায়েলি বাহিনী চাইলে যে কোনও অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই যে কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক করে রাখতে পারে।  

আদামিরের অভিযোগ, দখলদার বাহিনী যে উপায়ে প্রশাসনিক আটকের নীতির প্রয়োগ ও ব্যবহার করে তা জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘণ। কনভেনশন অনুযায়ী এই ব্যবস্থা যুদ্ধাপরাধের শামিল।