৯ দিন ধরে চলা বিক্ষোভের মধ্যে সশীরে হাজির হয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন আর্মেনিয়ার প্রেসিডেন্ট আর্মেন সার্জিয়ান। পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ধরে রাখার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে সার্জিয়ানের বিরুদ্ধে রাজধানী ইয়েরেভেনে চলছে এই বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ঢুকে পড়ে তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার প্রস্তাব দেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।
এই মাসের শুরুতে নিজের শপথ ভেঙে আর্মেনিয়ার প্রেসিডেন্ট থেকে পদত্যাগ করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন নেন সাবেক প্রেসিডেন্ট সের্জ সার্জিয়ান। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি তাকে এই মনোনয়ন দেয়। এরই প্রতিবাদে গত ১৩ এপ্রিল থেকে বিক্ষোভ শুরু করেছেন বিরোধীরা। তাকে ক্ষমতায় দেখতে না চাওয়ার কারণ হিসেবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, তার সরকারের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবে বিশেষ ব্যক্তিদের উন্নতির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ৬৩ বছর বয়সী সার্জিয়ান এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লড়বেন না তিনি। তবে এই মাসের শুরুতে রিপাবলিকান পার্টি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদের জন্য মনোনীত করে। নিজে প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ে সংবিধান পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা থেকে একটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ওই সাংবিধানিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্টের পদকে খানিকটা আনুষ্ঠানিক রেখে সত্যিকারের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ন্যস্ত করা হয়।
এরই প্রতিবাদে গত ১৩ এপ্রিল বিক্ষোভ শুরু হলে দাঙ্গা পুলিশ তাদের ঠেকানোর চেষ্টা করে। অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আর্মেনিয়া থেকে বিবিসির সংবাদদাতা রায়হান দেমিত্রি জানিয়েছেন, আর্মেনিয়ার অনেক নাগরিক নিজে দেশে সত্যিকার পরিবর্তন দেখতে চান। তারা মনে করছেন একই নেতৃত্ব থাকায় তারা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
শনিবারের রাজধানী ইয়েরেভেনের রিপাবলিক স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের নেতা নিকোল পাসিনিয়ানের সামনে উপস্থিত হন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আর্মেন সার্জিয়ান। নিজের টাই খুলতে খুলতে প্রায় দশ মিনিট ধরে তারা কথা বলেন। সংবাদদাতারা বলছেন, সার্জিয়ান বিক্ষোভকারীদের কাছাকাছি একটি হোটেলে গিয়ে আলোচনা চালানোর প্রস্তাব দেন। তাৎক্ষণিক আলোচনার এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন পাসিনিয়ান। তবে তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর বল প্রয়োগ না করার নিশ্চয়তা চান প্রেসিডেন্টের কাছে। পরে দেহরক্ষীবেষ্টিত হয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে নিজের গাড়িতে উঠে পড়েন প্রেসিডেন্ট আর্মেন সার্জিয়ান। তখনও বিক্ষোভাকারীরা স্লোগান তুলছিলেন ‘সের্জকে ছুঁড়ে ফেলতে পদক্ষেপ নাও’।
পরে পাসিনিয়ান সাংবাদিকদের জানান, রবিবার সকালে তিনি ওই হোটেলে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান। তবে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে কি না তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি প্রেসিডেন্টের দফতর।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩১ লাখ জনসংখ্যার স্থলবেষ্টিত দেশটি গত বছর একটি অর্থনৈতিক পুর্নলাভের মুখ দেখেছে। দেশটির অন্যতম বাণিজ্য সহযোগী রাশিয়া। অনেক প্রবাসী শ্রমিক সেখানে কাজ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও তাদের বাণিজ্য রয়েছে।