ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে পা হারালো ফিলিস্তিনি শিশু

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে পা হারিয়েছে ১২ বছরের এক ফিলিস্তিনি শিশু। ২৪ এপ্রিল মঙ্গলবার দখলদার সেনাদের ছোড়া একটি গুলি তার পায়ে আঘাত হানে। আহত অবস্থায় দুইটি ভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার পা বাঁচাতে ব্যর্থ হন চিকিৎসকরা। ফলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এটি কেটে বাদ দিতে হয়। আহত শিশুটির নাম আবদেল রহমান নওফল। বুলেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তার আর্তনাদের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর।

Palestineপা হারানো আবদেল রহমান নওফল সাংবাদিকদের জানান, তার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। এখন এ অবস্থাতেও সেই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করে যাবেন তিনি।

গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে অন্তত ৫০০ শিশু-কিশোর। এমনকি নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিকে গুলি করার পর উল্লাসরত ইসরায়েলি সেনাদের ভিডিও পর্যন্ত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৩ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে পশ্চিম তীরের নেবালুস শহরের দক্ষিণে মাদামা গ্রাম থেকে ভিডিওটি ধারণ করে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বিটিসিলেম। ওই দিন সকালে গ্রামটির পূর্বদিকের প্রবেশপথে ব্যারিকেড দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। বিকেলে স্থানীয়রা গ্রামে ঢোকার জন্য ব্যারিকেড সরাতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়। গ্রামবাসী ব্যারিকেড সরানোর সময় ১১ জনের মতো ইসরায়েলি সেনা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় ৫০-৮০ মিটার দূর থেকে সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। জবাবে সেনাসদস্যরা চেতনানাশক গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। ওই ঘটনায় সাত বিক্ষোভকারী আহত হন। তাদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের গুলি করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় নিয়ে শান্তভাবে আলোচনা করছে। তাদের মধ্যে একজন বিক্ষোভকারীরা আরও কাছে এলে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়। ওই সেনা বলে,  ‘আমাদের শুধু একটা ভালো আঘাত করতে হবে। তাতেই হবে। এতে তাদের পাথর ছুড়ে মারার শিক্ষা হয়ে যাবে।’ এরপর একজন সেনা এক বিক্ষোভকারীকে গুলি করার পর উল্লাস করে উঠে। ওই সময় সে বিক্ষোভকারীদের গালাগালিও করে।