রোহিঙ্গা ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত বিএসএফ মোতায়েন

বাংলাদেশের সঙ্গে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার জুড়ে সীমান্তে রোহিঙ্গা প্রবেশ ঠেকাতে অতিরিক্ত বিএসএফ মোতায়েন করেছে ভারত। বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানায়, ১২০টি পয়েন্টে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএসএফ জওয়ানরা। এখান দিয়েই রোহিঙ্গাদের প্রবেশের সম্ভাবনা বেশি।

দায়িত্বরত কয়েকজন বিএসএফ সদস্যটেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা নেই ভারতের। বিএসএফকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়। গ্রেফতার করলে তাদের ‘দায়িত্ব’ হয়ে যাবে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। জাতিগত নিধন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ৬ লাখ ৯২ হাজার রোহিঙ্গা। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় জাতিগত নিধনের আলামত খুঁজে পায়। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এ ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ অ্যাখ্যা দেয়।

ভারতে বসবাস করা ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে সন্ত্রাসী বলে মনে করে ভারত। তাদের দাবি, ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য রোহিঙ্গারা হুমকি। গত অক্টোবরে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আটকে যায় এই নির্দেশ।

বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত আসে। রোহিঙ্গা ঢল নিয়ে উদ্বিগ্ন দুই দেশই। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সব রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ বা ভারত কোথাও কোনও সন্ত্রাসী কার্যক্রম হতে দেবে না তারা। 

বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, শরণার্থীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ কারার চেষ্টা করতে পারে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো।  

ভারতীয় কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ সরকারও সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঠেকাতে মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।