যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার দুই দিনের মাথায় শনিবার প্রথম বিদেশ সফরে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন সাবেক সিআইএ প্রধান মাইক পম্পেও। সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সাক্ষাতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা পর্যালোচনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। সৌদি আরব সফর ইসরায়েল ও জর্ডান সফর করবেন মাইক পম্পেও। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
শুক্রবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক সম্মেলনে মাইক পম্পেও বলেন, ট্রাম্প এখনও ইরান চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেননি। তবে চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করা না হলে হয়তো তিনি এ অবস্থানে অনড় থাকবেন না।
ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে যুদ্ধবাজ ও মুসলিমবিদ্বেষী হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও বৃহস্পতিবার সিনেটের ভোটাভুটিতে ৫৭-৪২ ভোটে নিয়োগ চূড়ান্ত হয় মাইক পম্পেও’র।
এর আগে গত মাসে নিজের প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে বরখাস্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর সাবেক সিআইএ প্রধান পম্পেওকে এই পদের জন্য মনোনীত করেন তিনি। এরপরই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম সফরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেন তিনি।
মাইক পম্পেওর এ সফরের কয়েকদিন আগে গত মঙ্গলবার ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা পেতে হলে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি ‘অঢেল সম্পদশালী’ দেশকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া এই দেশগুলো এক সপ্তাহও টিকবে না।
অর্থ পরিশোধের দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও দেশের নাম উচ্চারণ করেননি ট্রাম্প। তবে এ মাসের গোড়ার দিকে খোলাখুলিভাবে সৌদি আরবের কাছে সিরিয়া যুদ্ধের সামরিক ব্যয় দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সৌদি আরব যদি সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত দেখতে চায় তাহলে তাদের ওয়াশিংটনকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
সৌদি সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন অবস্থানের বিষয়ে দেশটির কর্মকর্তাদের বার্তা দিতে পারেন মাইক পম্পেও।
এর আগে সিআইএ প্রধানের দায়িত্ব পালনকালেও ট্রাম্প প্রশাসনের হয়ে সৌদি আরব সফর করেন তিনি।