কিউবার কুখ্যাত গুয়ানতানামো বে কারাগার থেকে এক কয়েদিকে সৌদি আররেব কাছে হস্তান্তর করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আদালতে ওই কয়েদির ১৩ বছরের সাজা হয়েছে। ওই শাস্তি কার্যকর করার লক্ষ্যেই তাকে সৌদি আরব নেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ সংস্থা মিডলইস্ট মনিটর এ খবর জানিয়েছে।
যু্ক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদর দফতর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০২ সালে ফরাসি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার পরিকল্পনায় সহায়তার অভিযোগে ৪৩ বছর বয়সী আহমেদ মোহাম্মেদ আহমেদ হাজা আল দারবি নামে একজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে তিনি শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেননি।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংবিধিবদ্ধ প্রয়োজনীয়তার কারণে প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে এই ব্যক্তিকে হস্তান্তরের বিষয়টি অবহিত করেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রতিজ্ঞা মোতাবেক এই হস্তান্তর সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করবে।
পেন্টাগনের বিবৃতিতে আারও বলা হয়, এই হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সৌদি সরকার সহায়তা করেছে।
আল দারবিকে হস্তান্তর করা হলে গুয়ানতানামো বে কারাগারে আর ৪০ জন কয়েদি থাকবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর আল দারবিই প্রথম কয়েদি যিনি এই ভয়ানক কারাগারটি থেকে মুক্তি পেলেন। ট্রাম্প এর আগে গুয়ানতানামো বে কারাগার চালু রাখার পাশাপাশি তা আবারও ভর্তি করার ঘোষণা দিয়েছেন।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে অভিযান শুরুর পর গুয়ানতানামো বে কারাগারটি চালু করা হয়। এরপর থেকে সেখানে বন্দিদের ওপর ভয়ানক অমানবিক অত্যাচারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি অত্যাচারের পর তাদের কোনও চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হতো না।
সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার সন্দেহে প্রথম ২০০২ সালের ১১ জানুয়ারি সেখানে এক বন্দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ওই নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই বিতর্কিত কারাগারটি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে কংগ্রেসের বিরোধিতার কারণে তিনি ওই প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেননি।