ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধারে সৌদি আরবের প্রথম আলোচনা ব্যর্থ

ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ ওবায়েদ বিন দাঘরসহ দশ মন্ত্রীকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা ও সোকোত্রো দ্বীপের চলমান সংকট সমাধানে সৌদি আরবের প্রথম আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। ইয়েমেনের সূত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার সৌদি প্রতিনিধিরা ইয়েমেনি সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে কোনও ফলাফল ছাড়াই তা শেষ হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দ্বীপটিতে (০৩ মে) চারটি সামরিক বিমান ও শতাধিক সেনা পাঠায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেদিনই দ্বীপটিতে সফরে যাওয়া ইয়েমেনি প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে ফিরতে চাইলেও তাকে বের হতে দেওয়া হয়নি। পরে এই সংকট সমাধানে মধ্যস্থতা করতে প্রতিনিধি পাঠায় সৌদি আরব।
সোকোত্রো সংকট সমাধানে সৌদি আরবের প্রথম আলোচনা ব্যর্থ হয়েছেজাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সমর্থিত ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আবদ-রাবু মনসুর আল হাদীকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল করতে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের লড়াইয়ের ‌অন্যতম সহযোগী আমিরাত। সম্প্রতি আমিরাত দাবি করছে ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ সোকোত্রো ৯৯ বছরের জন্য লিজ নিয়েছে তারা। দেশটি সেখানে সামরিক কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।

সোমালিল্যান্ড উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত দ্বীপটি ইউনেস্কোর স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য। প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসতির দ্বীপটিতে যুদ্ধবিমান ও বড় সামরিক যান চলাচলের মতো তিন হাজার মিটার দীর্ঘ রানওয়ে রয়েছে। সোমালিল্যান্ডে একটি বাণিজ্যিক বন্দর স্থাপনে বিপুল বিনিয়োগ করেছে আমিরাত। বৃহস্পতিবার সেখানে সেনা সদস্য পাঠানোর পর ইয়েমেনের এক কর্মকর্তা একে আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করেন।

ইয়েমেনের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নায়েফ আল বাকরি বলেছেন, ইয়েমেনি জনগণ তাদের ভূমি রক্ষা করবে। দ্বীপ ও উপকূলের এক বিন্দু বালু সমর্পণ করা হবে না।

আমিরাতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আনওয়ার গার্জেস এক টুইটার বার্তায় বলেন, তার দেশের সঙ্গে সোকোত্রো দ্বীপের ঐতিহাসিক ও পারিবারিক বন্ধন রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সোকোত্রোর অধিবাসীদের স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে সমর্থন দিয়ে যাব।

তবে ইয়েমেনি কর্মকর্তারা বলছেন, আমিরাতের সেনা উপস্থিতিতে স্থানীয় মানুষেরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দাঘরের উপস্থিতিতে তাদের আমিরাতবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয়দের দাবি দ্বীপটিতে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের কোনও অবস্থান নেই। যাতে করে আমিরাত তাদের সেনা উপস্থিতির ন্যায্যতা প্রমাণ করতে পারে।